নড়াইলের মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাঘারপাড়ায় ধর্ষণের পর হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাদুড়া বিলের মাছের ঘের থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে উপর্যুপরি ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে গতকাল লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। খুনের শিকার জয়নাব খাতুন (১৩) নড়াইল সদর উপজেলার মির্জপুর গ্রামের শেখ জিয়াউর রহমানের কন্যা। সে মির্জাপুর খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।
মৃতার মাতা জাকিয়া বেগম জানিয়েছেন, গত রোববার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে জয়নাব খাতুন বাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা ও কাপড় নিয়ে সবার অগোচরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। তার গলায় স্বর্ণের চেইন ও হাতে আংটি ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে খোঁজ করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনের কাছে তারা যোগাযোগ করতে থাকেন। সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাঘারপাড়ার ভাঙ্গুড়া বিলের একটি মাছের ঘের থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। লোকমুখে সংবাদ পেয়ে তারা বাঘারপাড়া থানায় এসে লাশটি জয়নাব খাতুনের বলে শনাক্ত করে।
জাকিয়া খাতুন আরও জানান, যশোর সদর উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে মজিবুল তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আসে। তার ফোন পেয়ে জয়নাব বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। দু’বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে জয়নাব দ্বিতীয়। মৃতার ভগ্নিপতি আসাদুজ্জামান চানপাড়া মসজিদে ইমামতি করেন এবং মসজিদসংলগ্ন বাসায় বসবাস করেন। ৩ মাস আগে জয়নাব তার বাসায় বেড়াতে আসে। সেখানে থেকে মজিবুলের সাথে তার পরিচয় এবং প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জয়নাবকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় সে। এরপর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরিবারের সকলের একই অভিযোগ। বাঘারপাড়া থানার এসআই আব্দুস সাত্তার সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তিনি জানিয়েছেন, যশোর-মাগুরা সড়কের দক্ষিণে বাঘারপাড়া ভাঙ্গুড়া বিলে আব্দুর রউফের মাছের ঘের থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার ডান কান, চোখের উপর কাটা দাগ রয়েছে। ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা হতে ৪ নভেম্বর বিকেলের ভেতর যে কোন সময় তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে এসআই আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় ৪ নভেম্বর জিডি এন্ট্রি হয়েছে। গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে স্বজনরা লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান।

ভাগ