নৌকা ঠেকাতে না পেরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো কথা বললেন রনজিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৌকা ঠেকাতে উচ্চ আদালতে মামলার রায় বিপক্ষে যাওয়ার সাথে সাথে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রনজিত কুমার রায়।  মঙ্গলবার দুপুরে রনজিত কুমার রায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে আদালতে ওই আসেনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বহাল থাকার আদেশ দেন।
রণজিত কুমার রায় বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য। গত তিন মেয়াদে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন রনজিত রায়। দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশও তাকে যাতে মনোনয়ন না দেয়া হয় সেজন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে দেনদরবার করে আসছিল।
এরই মাঝে আসনটিতে নতুন করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুলকে। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে রনজিত কুমার রায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। বর্তমান তার প্রতীক ঈগল।
এদিকে যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে এনামুল হক বাবুল টিকে গেলেও তার প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন যশোর-৪ আসনে বিএনএমের প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়। শুনানি শেষে গত ১৩ ডিসেম্বর এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে তিনি প্রার্থিতা ফেরত পেতে হাইকোর্টে রিট করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করলে ১৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফেরত দেন।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত থেকে এনামুল হক বাবুল প্রাির্থতা ফেরত পেলেও উল্লিখিত দুই প্রার্থী ফের উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেটি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বহালের আদেশ দেন।
এদিকে সর্বশেষ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আদেশে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুল প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই রনজিত কুমার রায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতীক ছিল ঈগল। এখন আর এই প্রতীকের প্রার্থী আমি নই।’ তিনি বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি নৌকার বিপক্ষে কখনও নির্বাচন করবো না। সে কারণে প্রতীক বরাদ্দের পরও আমি কোন প্রকার প্রচারণা চালায়নি, পোস্টারও ছাপায়নি। এখন যেহেতু নৌকার প্রার্থী টিকে গেছেন সে কারণে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
উল্লেখ্য, এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনের অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন-জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের অ্যাডভোকেট জহুরুল হক, তৃণমূল বিএনপির লে. কর্নেল (অব.) এম শাব্বির আহমেদ সোনালী আঁশ প্রতীক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল নোঙ্গর প্রতীক ও ইসলামী ঐক্যজোটের ইউনুস আলী মিনার প্রতীক ।

 

Lab Scan