নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাঠে থাকবে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজপথে অবস্থান নেবেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে রায় নেতিবাচক হলেও সহিংস কোনো কর্মসূচিতে না যেতে দলীয় হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ‘নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ জানাতে নেতা-কর্মীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির একাধিক সূত্র। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও নিয়মের মধ্যে থেকে সব ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতকে ব্যবহার করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ছাত্র, জনতাকে আহ্বান জানাই এগিয়ে আসতে। বিএনপি, ২০ দলসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক দল, কৃষক-শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দলীয় সূত্র বলছে, রায় শুনতে আদালতে যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে থাকবে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। অন্যদিকে বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ড মাঠে অস্থায়ী আদালতের আশপাশের এলাকাগুলোতে জমায়েত হবে তারা। ঢাকার মতিঝিল, রমনা, পুরান ঢাকা, শাহবাগসহ আদালতের আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির জন্য কেন্দ্র থেকে বুধবার রাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে কার্যত কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, মামলার যে পরিস্থিতি তাতে তিনি (খালেদা জিয়া) বেকসুর খালাস পাবেন। তবে রায় নেতিবাচক হলেও সেক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি হওয়ার পর এই প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সংগঠনটির নেতৃত্ব। কর্মসূচি না থাকলেও রায়কে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক কর্মী উপস্থিতি ঘটিয়ে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চাইছে সংগঠনটির নেতৃত্ব। ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘কর্মসূচি না থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে নেতা-কর্মীরা রাজপথে থাকবে। আদালতের আশপাশ এলাকাগুলোতে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবে। আশা করছি ম্যাডাম বেকসুর খালাস পাবেন। নেতিবাচক রায় হলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর প্রতিবাদ জানাব।’
এদিকে খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’ রিজভী বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারিতে সরকার প্রধানের ইচ্ছা পূরণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া উন্মত্তায় বিএনপির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু সরকার মনে হয় রায় নির্ধারণ করে রেখেছে বলেই প্রতিক্রিয়ার অজানা আতঙ্কে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে।’ এদিকে আদালতে রায় শুনতে হাজির হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনি তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অবস্থানগত কৌশলের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ নেত্রীর গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই তাকে অনুসরণ করবে। থাকবে গাড়ি বহরের সঙ্গে। এ ছাড়া নেতা-কর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে জড়ো হবে। রায় বিপক্ষে গেলে রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ মিছিল বের করবে তারা। পুরান ঢাকার সিএমএম কোর্ট, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় অবস্থিত বিশেষ জজ আদালত ও উচ্চ আদালত এলাকায় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা বেশি থাকবে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি সফল করার জন্য মহিলা দলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে নেতারা যেতে না পারলে ব্যাপক সংখ্যক নারী নেত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছেন দায়িত্বশীলরা। এ জন্য মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিশেষ বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর ও থানা ভিত্তিক কমিটিগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।

ভাগ