নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চায় ঢাকা

0

মিজানুর রহমান॥ র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় মন্ত্রী-সচিবের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় বাংলাদেশ। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা যতটা সম্ভব শিথিল এবং পরবর্তী ঝামেলা এড়াতে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে অধিকতর সংযুক্তি এবং নিবিড় আলোচনায় জোর দিচ্ছে সরকার। সংলাপ ও আলোচনার মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সব ‘ভুল বুঝাবুঝি’র অবসান সম্ভব বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা। সচিব মানবজমিনকে বলেন, এ নিয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। পরবর্তীতে আরও আলোচনা হবে। যোগাযোগও বাড়বে। আলোচনার জন্য সরকারের কোনো প্রতিনিধি শিগগিরই ওয়াশিংটন যাচ্ছে কিনা? জানতে চাইলে সচিব মোমেন অবশ্য খোলাসা করে কিছু বলেননি। তবে অন্য এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও বিবেচ্য যে, দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও যোগাযোগ রয়েছে। সেটি অবশ্য ধরে রাখতে হবে। এ জন্য আমাদের যোগাযোগ ও আলোচনা আরও বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার সর্বোচ্চ ফোরাম ‘পার্টনারশিপ ডায়ালগ’- এর তারিখ চূড়ান্ত করতে ক’মাস ধরে ঢাকা-ওয়াশিংটন চিঠি চালাচালি চলছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা অল্টারনেটিভ ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় বাৎসরিক ওই সংলাপ এবার ঢাকায় হওয়ার কথা। আগামী জানুয়ারিতে সংলাপটি হতে পারে মর্মে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সবুজ সংকেত মিলেছিলো। কিন্তু ক’দিন আগে ওয়াশিংটন তা পিছিয়ে দিতে ঢাকাকে অনুরোধ করে। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংলাপটি পিছিয়ে (জানুয়ারির বদলে) ফেব্রুয়ারি বা মার্চে করার চিন্তাভাবনা চলছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিকিউরিটি ডায়ালগ হওয়ার কথা রয়েছে। সেটির তারিখ চূড়ান্ত প্রায়। সুনির্দিষ্টভাবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বছরান্তে অনুষ্ঠিত হয় সিকিউরিটি ডায়ালগ। এটি এবার ওয়াশিংটনে হবে। তাই সিকিউরিটি ডায়ালগের আগেই ঢাকায় পার্টনারশিপ ডায়ালগ সারতে চায় বাংলাদেশ, যেখানে সম্পর্কের স্পর্শকাতর সব ইস্যু নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী সরকার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের ভারসাম্যগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা? জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার সব সময় সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে। এটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। তবে একইসঙ্গে এটাও ঠিক বর্তমান বাংলাদেশ এবং ২০ বছর আগের বাংলাদেশ এক নয়। উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত? তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক নানা আলোচনা-পরামর্শ চলছে। গতকালও এ সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।

Lab Scan