নির্বাচনে শঙ্কার কথা জানালেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইয়াকুব আলী ও জাপা প্রার্থী জহুরুল হক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৌকা মার্কার সন্ত্রাসীদের কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা সে বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যশোরের সংসদীয় আসনের দুই প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে শনিবার যশোর-৬ মনিরামপুর আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এসএম ইয়াকুব আলী ও বাঘারপাড়া-অভয়নগর, বসুন্দিয়া আসনের জাতীয়পার্টি প্রার্থী (জাপা) অ্যাডভোকেট জহুরুল হক জহির এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দুজন প্রার্থীই তাদের শঙ্কার কথা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে দেখা করে রোববার বিকেলে প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে যশোর-৫ মনিরামপুর আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি এসএম ইয়াকুব আলী অভিযোগ করেন, তার এলাকার ভোটারদের নৌকা প্রার্থীর লোকজনরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশের আশায় ভোটে এসেছেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই এলাকা অশান্ত হয়ে উঠছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্যের ঈগল মার্কার লোকজনদের হুমকি দিচ্ছে ভোটকেন্দ্রে যাতে না যায়।
সংবাদ সম্মেলনে এসএম ইয়াকুব আলী বলেন, সংসদীয় আসনে অন্তত ৪৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিষয়ে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে দেখা করে বলে এসেছি। নৌকার লোকজনরা এখানে ঝামেলা করতে পারে। এছাড়া আমার ভোটার অধ্যুষিত অন্তত ২০টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে সেখানে পরিকল্পিত গোলযোগ সৃষ্টি করে ভোট বন্ধের ষড়যন্ত্র আটছে নৌকার সমর্থকরা। তিনি বলেন, আশা করছি প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোটের আয়োজন করবে। আর ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে শেষ সময়ে নির্বাচনে থাকবো কি না থাকবো তা সঠিক সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের বিষয়টি অবহিত করে আসেন যশোর-৪ অভয়নগর-বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া আসনের জাতীয়পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জহিরুল হক জহির। এ সময় তিনি আসনটির অভয়নগর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও বাঘারপাড়া উপজেলার ১টি ইউনিয়নের সকল ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সেখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, অভয়নগরের ৮ নং সিদ্দিকপাশা, ৭নং শুভরাড়া, সুন্দলী, ৪ নং পায়রা, বাগুটিয়া ইউনিয়নের ও নওয়াপাড়া পৌরসভার সকল কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর লোকজন প্রভাব বিস্তার করে ভোট কেটে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। একই সাথে বাঘারপাড়ার জামদিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করে নৌকার সমর্থকরা ভোট কেটে নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর জাপা প্রার্থী জহুরুল হক জহির প্রেস ক্লাব যশোরে এসে সাংবাদিকদের কাছে তার আশঙ্কার কথা জানান।
উল্লেখ্য এর আগে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে যশোর-৬ মনিরামপুর আসনের জাতীয়পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হালিম, যশোর-৫ মনিরামপুর আসনের তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) আ.ন.ম. মোস্তফা বনি ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের বিএনএম-এর প্রার্থী সুকৃতি কুমার ম-ল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
আর যশোর-১ শার্শা আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। যশোর-৩ সদর আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথও তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বিরুদ্ধে তার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনেন।

 

 

Lab Scan