নির্বাচনে ভয়ঙ্কর সন্ত্রসীরা দাপাচ্ছে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আতঙ্ক সর্বত্র

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুধু যশোর শহর ও শহরতলী নয়, জেলার সর্বত্র চলছে ভয়ঙ্কর সব সন্ত্রাসীর দাপট। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, হুমকি আর পাল্টা হুমকিতে জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে সবমহলে। পুলিশ বলছে, অপরাধীদের ছাড় হবে না,তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণকারী ও সংবাদ সংগ্রহকারীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ মুহূর্তে একদলীয় লড়াইয়ে পরিণত হওয়ায় সন্ত্রাসীদের কদর বেড়েছে সর্বত্র। আওয়ামী লীগের নৌকা ও নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় ডামি,স্বতন্ত্র সব প্রার্থীরই প্রয়োজন হয়েছে সাহসী লড়াকু কর্মীর। মূলত মাঠ দখল ও কেন্দ্রে আধিপত্য সৃষ্টির জন্য সাহসীদের বিকল্প নেই। আর সাহসী হচ্ছে তারাই যারা ইতোমধ্যে অপরাধ জগতে নামডাক প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছ। খুন, চাঁদাবাজ, ভূমিদখল,টেন্ডারবাজিী,ছুরি- চাকু-চাপাতি রামদা নামবিশেষণ অর্জনকারীরাই এক্ষেত্রে অধিক সাহসী হিসেবে গণ্য। এদের কদরও তাই বেশি। কিন্তু দলের সব আসনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হাওয়ায় ‘সাহসী’ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনাকারীরা বহু মামলায পলাতক সন্ত্রাসী, চরমপন্থি ক্যাডার, চরমপন্থি পরিচয়ে সশস্ত্র ভাড়াটে খুনি, চাঁদাবাজদের নিজ নিজ পক্ষে সংগ্রহ করেছেন। গ্রামপর্যায়ে মূলত এদেরই দাপট চলছে। এদের পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের সুবিধাভোগী নিজস্ব ক্যাডাররাও কাজ করছে যুবলীগ ছাত্রলীগ পরিচয়ে।
সূত্র মতে পুলিশ এই মুহূর্তে নির্বাচনের স্বপক্ষে কথাবলা কাউকেই গ্রেফতার করছে না। কোনো ধরনের অপরাধীর বাড়িতেও যাচ্ছে না। তারা শুধু নির্বাচন বর্জনকারী দলসমূহের কর্মীদের খুঁজছে। ক্ষেত্রবিশেষ উল্লিখিত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় গ্রেফতার করছে। ফলে সমাজবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত পুলিশের মোস্টওয়ান্টেডরাই এখন সমাজের নিয়ন্ত্রক নির্দেশক সেজে বসেছে। এরা একক কোনো প্রার্থীর পক্ষে নয়, এরা ভাড়া খাটছে যিনি বেশি দিচ্ছেন তার পক্ষে।এতে ভয়ংকর সন্ত্রাসীরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী ও মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে। অতীতে বিভক্তরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরনো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও সূত্র বলছে।
সূত্রমতে এবার অবৈধ অস্ত্র উদ্বার, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং আটকে এখনও পর্যন্ত পুলিশসহ দায়িপ্রাপ্তরা দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা রাখেনি। এতে অবৈধ অস্ত্রধারীরা নিজেদের দাপটের ধার দেখাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করছে, ক্ষেত্রবিশেষ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকের ভাষ্যমতে এই পরিস্থিতিতে ভোট দিতে আগ্রহী অনেক আওয়ামী নিরীহ পরিবার ভোটের মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছে। তারা ভয় পাচ্ছেন সন্ত্রাসীরা যেহেতু সব পক্ষে খেলছে সেহেতু ভোটের পর পরাজিতরা কী ভয়ঙ্কর রূপ নেয় কে জানে। পরাজয়ের দায় চাপিয়ে বিপদে ফেললে তো রক্ষা পাবো না।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচনে তিন প্রধান প্রার্থীর কর্মীদের সাথে পূর্বঘনিষ্ঠদের সূত্রে আলাপকালে গ্রহণযোগ্য সত্যতা মেলে। খোলামেলা আলাপকালে তারা বলেন নির্বাচন এলে তো ওদের (চরমপন্থি ও আওয়ামী আশ্রিত সন্ত্রাসী ) কদর বাড়েই। স্থানীয় -জাতীয় সব নির্বাচনেই ওদের ওপর প্রার্থীরা ভরসা করতে বাধ্য হয়। কেন্দ্রের বাইরে প্রতিপক্ষ নিয়ন্ত্রণ থেকে কেন্দ্রের ভেতরে আধিপত্য বিস্তারে ওরাই ভরসা হয়। এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেকটা একদলের একাধিক প্রার্থীর লড়াই হওয়ায় এদের কদর বেড়েছে। আর ভোটের মাঠে লোকজন বাড়াতে পুলিশের অঘোষিত দায়িত্ব থাকায় তারা ওদের সুযোগ করে দিচ্ছে, এতে ওদের দাপট বেড়ে গেছে। যা সাধারণে উৎসাহের বদলে আতঙ্কেরও কারণ হচ্ছে।
একাধিক নেতাকর্মী বলেন, শহরে চোর ছ্যাঁচড় ছিনতাইকারী,মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের ওয়ার্ডভিত্তিক গডফাদার খ্যাতরাও প্রার্থীদের পক্ষে ঝান্ডা উড়িয়ে দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত সংবাদও ছাপা হচ্ছে সরকার বলে পরিচিত পত্রিকায়। খবর তো একেবারে মিথ্যা নয়। গত ২৩ দিনে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী আটকের বেহাল চিত্র তো লোকসমাজে র‌্যাব -পুলিশের বক্তব্যসহই ছাপা হয়েছে। সাফল্য বলতে তো হুমকি আর আশ্বাসেই শেষ। সরেজমিন ঘোরার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারা মনে করেন এরচেয়ে প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতো তাহলে দলনিরপেক্ষ ২০ভাগ ভোটারের মাঠে আসার সম্ভবনা বাড়তো।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেখানে গত ৫২বছর ধরে নানা পরিচয়ে সশস্ত্র লড়াই করে খুন পাল্টা খুন করা বাহিনী নামক গ্রুপগুলো এবারও তাদের বিরোধ বজাই রেখে নৌকা ও আওয়ামী দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের নিরাপত্তার অভাব জানিয়ে বর্তমান সন্ত্রাসীদের নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, নওয়াপাড়া ও ফতেপুর ইউনিয়নে নিহত আসলাম, হারুন,রশিদ, বাচ্চু, দাউদ,আখি, বেড়ে, সিদ্দিক খাদের অনুসারীরা এখন নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দাপট দেখাচ্ছে। এদের অস্ত্র কোনোকালেই উদ্ধার হয় না। বরং ভোট এলেই নতুন অস্ত্র আসে। ইছালী ইউনিয়নে বাহিনীর কোনো শেষ নেই। সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ,বিএনপি নেতা খলিল, কোহিনুর, আনসার সদস্য হোসেন, জয়নাল,বুলি মেম্বারসহ শত খুনে জড়িতদের অনুসারীরা একইভাবে ভাড়া খাটছে। এদের সবার তালিকা পুলিশের কছে আছে। লেবুতলার চেয়ারম্যানের রয়েছে বিশাল বাহিনী, আছে তার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। কাশিমপুর, হৈবৎপুরে পরস্পরবিরোধী চারটি গ্রুপ এ মুহূর্তে সক্রিয়। চুড়ামনকাঠিতে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের ক্যাডারদের বাইরে, শরিফুল,সলেমান, জহুরুলদের অনুসারীরা আছে। এই তিনটি ইউনিয়নসহ উপশহর ইউনিয়নের ক্যাডারদের একটি বড় অংশ এখন অন্য একটি আসনে তাদের নেতার পক্ষে কাজ করছে। দেয়াড়া, আরবপুর,আমদাবাদ, চাঁচড়া,রামনগর, কচুয়া, নরেন্দ্রপুরে রয়েছে খোদ দলীয় বিভক্তি। এখানে খুনোখুনি কম হয়নি। পুলিশের তালিকায় ওয়ান্টেডে ভরা। অন্যসময় কিছু ধরলেও এখন ওরা সাতখুন মাপের তালিকায় রয়েছে। পুলিশের সাথেই যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াতের কর্মীদের বাড়ি। অন্য সাতটি উপজেলার সবকটিতে একই অবস্থা বিরাজমান।

Lab Scan