নিম্নমানের সয়াবিন রফতানি করছে ব্রাজিল?

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের নির্ভরযোগ্য উৎস ব্রাজিল। দামে তুলনামূলক সস্তা ও মান ভালো হওয়ায় চীনসহ আমদানিকারক দেশগুলো ব্রাজিল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করে। বিশেষত বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পর চীনা আমদানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ব্রাজিল থেকেই কৃষিপণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছেন। তবে সম্প্রতি ব্রাজিলের রফতানিযোগ্য সয়াবিনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ব্রাজিলের সয়াবিনে প্রয়োজনীয় প্রোটিন বা আমিষের ঘাটতি রয়েছে। এর জের ধরে দেশটি থেকে চীনের বাজারে কৃষিপণ্যটির আমদানি কমানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। ব্রাজিলের মোট রফতানীকৃত সয়াবিনের ৮০ শতাংশ কেনে চীন। সম্প্রতি চীনা আমদানিকারকরা প্রোটিনের ঘাটতির অভিযোগ তুলে একের পর এক সরবরাহ আদেশ বাতিল করতে শুরু করেছেন। এতে টনক নড়েছে ব্রাজিলেরও। অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছে দেশটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সয়াবিনের অন্যতম পুষ্টি উপাদান প্রোটিন। ১০০ গ্রাম সয়াবিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৩ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে ২০১৮-১৯ মৌসুমে সংগ্রহ করা সয়াবিনের একেকটি দানায় প্রোটিনের গড় পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের মৌসুমে এর পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
সয়াবিনে প্রোটিন কমে যাওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্রাজিলের রফতানিকারকরা। ব্রাজিলের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা কারামুরা অ্যালিমেন্টোস এসএর বোর্ড এক্সিকিউটিভ সিজার বোরগেস বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রোটিনসমৃদ্ধ সয়াবিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে চীনা আমদানিকারকরা কৃষিপণ্যটির চালান বাতিল করতে শুরু করেছেন। যারা সয়াবিন কিনতে আগ্রহী, তারাও নিম্নমানের অভিযোগ তুলে ডিসকাউন্ট চাইছেন। অথবা সয়াবিনের ন্যূনতম পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে বলছেন।
ব্রাজিলের সরকারি গবেষণা সংস্থা এমব্রাপার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রফতানিযোগ্য সয়াবিনে প্রোটিন ঘাটতির বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক মার্চেলো ডি ওলিভিরা বলেন, প্রাথমিক গবেষণা শেষে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রাজিলে উৎপাদিত সয়াবিনে প্রোটিনের পরিমাণ আগের তুলনায় সামান্য কমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তখন কৃষিপণ্যটির গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন আমদানিকারক। দেশটির আমদানিকারকরা নিম্নমানের কিংবা পুষ্টিহীন সয়াবিন আমদানি করতে চান না। এ কারণে প্রোটিন কমার অভিযোগ তুলে তারা ব্রাজিল থেকে কৃষিপণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিতে শুরু করেছেন। অথচ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলে সয়াবিন আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন তারা। এখন বাণিজ্যযুদ্ধের পরিস্থিতি না বদলালেও চীন-ব্রাজিল সয়াবিন বাণিজ্য শ্লথ হতে শুরু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হওয়া সয়াবিনে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়তির দিকে রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হওয়া সয়াবিনের একেকটি দানায় প্রোটিনের গড় পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। সেই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রাজিলের সয়াবিন এখনো তুলনামূলক অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন। বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি এটাও চীন-ব্রাজিল সয়াবিন বাণিজ্য গতিশীল করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা না কমায় চীনা আমদানিকারকরা চাইলেও এখন আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়াতে পারবেন না। বাড়তি শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে ভাগ্য খুলতে পারে আর্জেন্টিনার। ব্রাজিলের রফতানিযোগ্য সয়াবিনে প্রোটিনের ঘাটতি চীনের বাজারে কৃষিপণ্যটির রফতানি বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখবে। আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি থেকে রফতানি হওয়া সয়াবিন আগের তুলনায় বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। চলতি বছর আর্জেন্টিনার সয়াবিনে প্রোটিনের পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৬ থেকে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ভাগ