নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির দাবিতে সারা দেশে বিএনপি ১১ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে। ঘেষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল ২ মার্চ জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। আমাদের সংবাদদাতাতের পাঠানো রিপোর্ট-
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে বিদেশে ভোট চোর হিসেবে পরিচিত এই সরকার গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করেছে। প্রতিবাদ করলেই খুন গুম করেছে। ৫ হাজারেরও বেশি দেশপ্রেমিক জনগণকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনে কুশীলবদের ষড়যন্ত্রে চোরাগলি পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। বন্দরগুলো প্রভুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর সাংবাদিকরা এসব কথা যাতে লিখতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করেছে। সাগর রুণির মতো দেশপ্রেমিক কৃতী সাংবাদিকদের হত্যা করে বিচারিক প্রক্রিয়া অচল করে রাখা হয়েছে।


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। চাল, ডাল, তেল ও গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জনতার মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার এখন ভাতে মারার জন্য একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। জনগণের প্রতি এই সরকারের কোনো দয়ামায়া নেই। তারা ফ্যাসিস্ট। দেশের মানুষ আজ তেল, চিনি, চাল, ডাল কিনতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আর সরকার ব্যস্ত মেগা প্রকল্প নিয়ে। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট করা যায়, জনগণ ও রাষ্ট্রের টাকা পাচার করা যায়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের জনগণ যদি নাই বাঁচে তবে পদ্মা সেতু আর মেট্রো রেল দিয়ে কী হবে ? মানুষবিহীন এই দেশে কারা চড়বে এই রেলে ? ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. এস এম মশিয়ূর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাড. এম এ মজিদের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওহাব, শাহানা রহমান রানী, জাহিদুজ্জামান মনা, অ্যাড.মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন আলম, সালাহউদ্দীন বুলবুল সিডল, আব্দুর রাজ্জাক, জিন্নাতুল হক, তহুরা খাতুন, কামরুন্নাহার লিজি, আব্দুল হামিদ, আহসান হাবিব রণক, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, পলি খাতুন, নার্গিস সুলতানা দিবা, সৌমেনুজ্জামান সোমেন, মুশফিকুর রহমান মানিকসহ ৬ উপজেলার বিএনপি, শ্রমিকদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন মোটা চাল ৪৮ টাকার উপরে। অথচ বিএনপির সময় মোটা চাল ছিল মাত্র ১৬ টাকা কেজি। তিনি বলেন জনগণকে বাঁচানোর কোনো মাথাব্যথা নেই হাসিনা সরকারের। তারা জানে জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হয়নি। রাতের বেলা প্রশাসনের লোকজন ভোট কেটে তাদের পাস করিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে তার দলের লোকজন গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে ডাকে। কিন্তু দেশের কোথায় আজ গণতন্ত্র বিদ্যমান তা আওয়ামী লীগ প্রমাণ করুক। তাদের ম্লোগানের ‘সোনার বাংলা’ আজ শ্মশানে পরিণত হচ্ছে। নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষ ফকির হচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবের ডাকে নয় বরং শহীদ জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। এই জন্য আওয়ামী লীগে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই। নেই বীরপ্রতীক, বীরবিক্রম ও বীরশ্রেষ্ঠ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের দৃষ্টি সরানোর জন্য আওয়ামী লীগের ল্যাবরোটরিতে শতভাগ পরীক্ষিত আমলাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই সিইসি বিতর্কিত ও আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত। অথচ এমন একজন ব্যক্তিকে সিইসি বানিয়ে জনগণের দাবির সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে ফেরেস্তা দিয়ে নির্বাচন করালেও তা সুষ্ঠু হবে না বলে বিএনপির এই তরুণ নেতা মনে করেন।

নড়াইল অফিস জানায়, কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নড়াইল জেলা বিএনপির উদ্যোগে বুধবার প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশি বাধার কারণে বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মনিরুল ইসলামের বাসভবনে সভা হয়। প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া,বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ,যুগ্ম সম্পাদক আলী হাসান,অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল,সৈয়দ হারুন অর রশিদ,সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাহিদুর রহমান পলাশ,জেলা যুবদলের সভাপতি মশিয়ার রহমান, সেক্রেটারি সায়দাত কবীর রুবেল,স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহ্বায়ক খন্দকার ফসিয়ার রহমান,সদস্য সচিব মঞ্জুরুল সাইদ বাবু,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ বিশ্বাস,সেক্রেটারি খন্দকার মাহমুদুল হাসান সানি। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির আজকের এ কর্মসূচি সাধারণ জনগণের কর্মসূচি। দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ফেলতে হয়। ‘৭৪ এর দূর্ভিক্ষের পদধনি শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ফ্যাসিস্ট এ সরকার খুন,গুম ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে। জনরোষে পড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পালানোর সুযোগও পাবে না। সেদিন আর বেশি দূরে নয় ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনা করবে ইনশা আল্লাহ।


বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও লাগামহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে বাগেরহাট জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সদর থানার মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রয়ে়ল, বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সদস্য-সচিব মোজাফফর রহমান আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেখ মুজিবুর রহমান,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম গোরা, লালন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক, ফরাজী মনিরুল ইসলাম, মংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ জুলফিকার আলী, শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, আব্দুল হালিম খোকন, জেলা যুবদলের সভাপতি হারুন আল রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল¬া। বক্তারা বলেন, দেশে একধরনের অরাজকতা চলছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই। সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আচরণে দেশ থেকে গণতন্ত্র বিদায় নিয়েছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। অতি দ্রুত তেল, চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না কমালে আরও বড় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান বক্তারা।

Lab Scan