নিতাইগঞ্জে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মসুর ডালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ১৬ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
গতকাল নিতাইগঞ্জে পাইকারিতে প্রতি কেজি আস্ত মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৭১ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয় ৫৫ টাকায়। সে হিসাবে আস্ত মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা।
অন্যান্য ডালের মধ্যে প্রতি কেজি ভাঙা মসুর ডাল বাজারে বেচাকেনা হয় ৬২ টাকা দরে। একই ডাল ৮-১০ দিন আগেও বেচাকেনা হয় ৫০ টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে কেজিপ্রতি ভাঙা মসুর ডালের দাম বেড়েছে ১২ টাকা। এছাড়া দেশী মসুর ডাল বাজারে বেচাকেনা হয় ৯০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৮৮ টাকায়। দিল্লি সুপার ডাল বাজারে বেচাকেনা হয় ১২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও একই ডাল বেচাকেনা হয় ১১২ টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে এ ডালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৮ টাকা।
এছাড়া গতকাল খেসারি ডাল পাইকারিতে আগের তুলনায় কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৬৭ টাকা, অ্যাংকরের দাম প্রায় সাড়ে ৪ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৩৫, মুগডাল ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ১২০, চনাবুটের দাম ৮ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৬৮ এবং বুটের ডালের দাম আগের তুলনায় ১১ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৭২ টাকায় বেচাকেনা হয়।
নিতাইগঞ্জের বাসন্তী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি চলে সিটি গ্রুপের আস্ত মসুর ডাল। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েকের মতো সরবরাহ বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত সপ্তাহ থেকে সরবরাহ শুরু করলেও মিল গেট থেকে আগের তুলনায় দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ মিল গেট থেকেই কেজিপ্রতি মসুরের ডাল ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমরা নতুন করে ডিও কাটিনি। পুরনো ডিওর পণ্য থেকে বিক্রি করছি।
এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পাইকারির তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ২২ টাকা বেশি দামে আস্ত মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে। নগরীর বাবুরাইল বৌ বাজার ও মাসদাইর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আস্ত মসুর ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে।
বৌ বাজারের দোকানি আব্দুর রশিদ জানান, নিতাইগঞ্জে পাইকারি বাজারে ডালের দাম বেড়েছে। ফলে বাড়তি দামে ডাল কিনে আনতে হচ্ছে। এছাড়া পরিবহন খরচ ও ঘাটতি হিসাব করে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়।

ভাগ