নারীকে জুতাপেটার ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যসহ আসামিদের ৮ ঘণ্টার মধ্যে জামিন!

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের আলোড়িত যুবতীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটকের দিনই অভিযুক্ত তিন জনের জামিনের ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এলাকাবাসী ও আইনজীবীরা এ জন্য দায়ি করেছেন পুলিশকে। তবে নিজেদের ঘাড়ে দায় নিতে রাজি নন যশোর কোতয়ালি থানার ওসি।
যশোরের চুড়ামনকাটির আব্দুলপুর গ্রামে ইউপি মেম্বারের হাতে তরুণ-তরুণীর নির্যাতনের ঘটনায় আটকৃতরা জামিন পেয়েছেন আটকের দিনই। আটকের মাত্র ৮ ঘণ্টা পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকাবাসী হতবাক হয়েছেন। গতকাল রবিবার দিনব্যাপী এলাকা জুড়ে সবার মুখে মুখে ছিলো কীভাবে জামিন পেলেন এই নির্যাতনকারীরা। পুলিশ অজ্ঞাত কারণে দূর্বল ধারা প্রয়োগ করে মামলা গ্রহণ করায় পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর কাছে। আর এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যরা। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেছেন, মামলাটিতে শ্লীলতাহানির ধারা দেয়া হয়েছে ৩৫৪। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে শ্লীলতাহানির জন্য ১০ ধারা বলবত রয়েছে, যা জামিন অযোগ্য। মামলা রেকর্ড করার সময় যদি ৩৫৪ ধারা না দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করা হতো তা হলে আসামিরা কেউ জামিন পেতেন না।
মামলায় উল্লেখ্য করা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ আব্দুলপুর গ্রামের সাহেব আলীর মেয়ে ইতি খাতুন(২০) তার পূর্ব পরিচিত বাগডাঙ্গা গ্রামের সরদারপাড়ার সাঈদ হাসানের (২২) সাথে সদরের এনায়েতপুর গ্রামের ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। মাহফিল শেষে তিনি সাঈদের সাথে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৭ টার দিকে আব্দুলপুরের রশিদের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা ইতিকে খারাপ কথা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইতি ও সাঈদকে ধরে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানী ঘটায়। এসময় ইতির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সোনার চেইন ও নগদ ১ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওই মারপিটের একটি ভিডিও ১৮ মার্চ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার আনিচুর রহমান নিজে ইতি খাতুনকে জুতাপেটা ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করছেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলেও তাদের মন গলেনি। এ সময় কয়েকজন যুবক মেয়েটির চুল কাটার চেষ্টা করেন। ভিডিও ভাইরালের পরপরই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির পিতা ইউপি সদস্য আনিচুর রহমানসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্তদের আটকে মাঠে নামে। রাতেই আসামিদের আটক করে শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আলোচিত এই ঘটনার মূলহোতা আনিচুর মেম্বারসহ ৩ জনকে জামিন দেয় আদালত। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আনিচ মেম্বার ও মামলার অন্য আসামিরা এলাকায় ভয়ংকর। তাদের নামে বিগত দিনে একাধিক মামলাও রয়েছে। ইতিমধ্যে মামলা মীমাংসা করে নিতে একটি পক্ষ তৎপর হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এলাকায় থাকতে হলে মেয়েটির পরিবারের মীমাংসা ছাড়া বসবাস করতে পারবে না। তাছাড়া আসামিরা প্রভাবশালী ও ভয়ংকর হওয়াই আতঙ্কে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। মেয়েটির পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। আসামিদের জামিন হওয়ায় হতবাক হয়েছেন মেয়ের পিতা। তিনি বলেন, তার মেয়েকে যারা এমনভাবে নির্যাতন করেছে কীভাবে তারা একদিনেই জামিনে মুক্ত হয়। ইতি খাতুনের মা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার মেয়েকে এমনভাবে পেটানো হয়েছে তার সমস্ত শরীরের কালো দাগ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ এস আই ওয়াসিম আকরাম জানান, মেয়েটির পরিবারের সব সময় খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

Lab Scan