নমুনা পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় বেড়েই চলেছে করোনা পজিটিভ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। তবে পরীক্ষার সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, আক্রান্তের হার বাড়ছে তার চেয়ে অধিক হারে। প্রথম দিকে পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে করোনা পজিটিভের হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়েছে। মোট নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় এখন আক্রান্তের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই হিসাবে নমুনা পরীক্ষায় প্রতি ৬ জনের মধ্যে গড়ে একজনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে প্রতিদিনের নমুনা পরীক্ষার দিক থেকেও আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার গড়ে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৬ মে সংখ্যার দিক থেকে আক্রান্ত গত কয়েকদিনের চেয়ে কম হলেও হার কিন্তু বেশি। এই হার ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা দেশে একদিনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্তের হারে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়ে আইইডিসিআরের প্রতিদিনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। দেশে করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের পর থেকে নির্দিষ্ট দিনের ২৪ ঘণ্টার এবং সেই দিন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা একশ’, পাঁচশ’, এক হাজার, পাঁচ হাজার, ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার, ২৫ হাজার, ৩০ হাজার এবং ৩৫ হাজার— এই ১০ দিনের আইইডিসিআরের প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে করোনা শনান্তের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত হওয়ার দিন ৬ এপ্রিল ৪৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ওইদিন পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৬১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৩ জনের করোনা পজিটিভ আসে। শতকরা হিসাবে এই হার তিন দশমিক ৪০ শতাংশ। দেশে মোট করোনা শনাক্ত ৫০০ তে উন্নীত হওয়ার দিন ১২ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের হার ছিলে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ওই দিন এক হাজার ৩৪০ জনের শরীরের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩৯ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়। আর ওই দিন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ (নয় হাজার ৬৫৩ জনের পরীক্ষায় ৬২১ জন পজিটিভ)। এই বৃদ্ধির হারের ধারাবাহিকতায় মোট আক্রান্ত এক হাজার যেদিন ছাড়িয়েছে, সেদিন (১৪ এপ্রিল) আক্রান্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সেদিন এক হাজার ৯০৫ জনের পরীক্ষায় ২০৯ জন পজিটিভ হয়। আর ৮ মার্চ করোনা শনাক্তের শুরু থেকে সেদিন (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট আক্রান্তের হার ছিল ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। মোট ১৩ হাজার ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে এক হাজার ১২ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়।
একইভাবে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার দিন (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচ হাজার ৪১৪ জনের (১১.৬৩%) পজিটিভ; ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার দিনে (৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় ১১ শতাংশ এবং মোট সংখ্যায় ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ; ১৫ হাজারে উন্নীত হওয়ার দিনে (১১ মে) ২৪ ঘণ্টায় ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং মোট সংখ্যায় ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ; ২০ হাজারে উন্নীত হওয়ার দিনে (১৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় ১৪ শতাংশ ও মোট সংখ্যার হারে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ; ২৫ হাজারে উন্নীত হওয়ার দিনে (১৯ মে) ২৪ ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও মোট আক্রান্তে ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ; ৩০ হাজারে উন্নীত হওয়ার দিনে (২২ মে) ২৪ ঘণ্টায় ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ ও মোট আক্রান্তে ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ৩৫ হাজারে উন্নীত হওয়ার দিনে ২৪ ঘণ্টায় ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ ও মোট আক্রান্তে ১৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৬ মে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ হাজার ৪০৭ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে এক হাজার ১৬৬ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদিন পজিটিভ শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেশে করোনা আক্রান্ত হওয়ার শুরু থেকে ২৬ মে ৮০তম দিন পর্যন্ত দুই লাখ ৫৮ হাজার ৪৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে পজিটিভ পাওয়া গেছে ৩৬ হাজার ৭৫১ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এদিকে আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে। দেখা গেছে, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে গত ২০ মে ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ২১ মে ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২২ মে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২৩ মে ১৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২৪ মে ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ, ২৫ মে ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ২৬ মে ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭৫১ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মারা গেছেন ৫২২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৫৮৯ জন। এই হিসাবে দেশে আক্রান্তের ‍তুলনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সুস্থ হওয়ার হার ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ভাগ