নদীর গভীরতা বাড়ায় মোংলায় স্বস্তিতে বন্দর ব্যবহারকারীরা

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট)॥ মোংলা বন্দরের জেটিতে নাব্য কম থাকায় সাত বা সাড়ে সাত মিটারের অধিক গভীরতার (ড্রাফট) জাহাজ ভিড়তে পারতো না। যে কারণে আট, সাড়ে আট কিংবা ৯ মিটারের গভীর জাহাজের পণ্য নিয়ে পশুর নদীর মাঝে নোঙ্গরে থেকে কিছু পণ্য খালাস করে পরে জেটিতে ভিড়ত। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকট দূর হয়েছে। অবশেষে প্রথমবারের মত মোংলা বন্দরের জেটিতে নোঙ্গর করেছে আট মিটার গভীরতার বাণিজ্যিক জাহাজ। সোমবার বিকেলে বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে পানামা পতাকাবাহী “এম সি সি টোকিও” জাহাজটি ট্রায়াল (পরীক্ষামূলক) ভিড়েছে। জাহাজটিতে সাত হাজার ২৪১ মেট্রিক টন ওজনের বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ৩৭৭টি কনটেইনার এসেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর। তবে এ বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজ আগমন ও পণ্য বোঝাই-খালাস শুরু হয় ১৯৮৫ সালের নভেম্বর থেকে। এর আগে যেসব জাহাজ এসেছে তার সবগুলোই ছিল ৭ মিটার গভীরতা সম্পন্ন কনটেইনার জাহাজ। এবারই প্রথমবারের মতো ৮ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে।
এর আগে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটিতে নাব্য সংকটের কারণে সময়মত অনেক জাহাজই না আনার বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। জেটি সংলগ্ন নদীরত পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় এই বন্দরের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা জেটি সংলগ্ন এলাকা ড্রেজিং করে নাব্য সংকট দূর করে গভীরতা বাড়ানোর দাবি জানান।
৮ মিটারের গভীরতা সম্পন্ন জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ওশান ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ জাহিদ হোসেন জানান, চীনের সাংহাই বন্দর থেকে কনটেইনার বোঝাই করে জাহাজটি ছেড়ে আসে গত ২৫ আগষ্ট তাইওয়ান ও মালয়েশিয়া হয়ে সোমবার বিকেলে মোংলা বন্দর জেটিতে ভেড়ে। এমসিসি টোকিও জাহাজটিতে বিভিন্ন পণ্যবোঝাই সাত হাজার ২৪১ মেট্রিক টন ওজনের ৩৭৭টি কনটেইনার এসেছে। এ জাহাজটির গভীরতা ৮ মিটার ও লম্বা ১৮৬ মিটার। সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, এটা বন্দরের জন্য একটা বিশাল অর্জন। মূলত বন্দর চ্যানেলের আউটার বারের ড্রেজিং সম্পন্ন ও ইনার বারে ড্রেজিং চলার কারণেই ৮ মিটার গভীরতার এ জাহাজটি সরাসরি বন্দর জেটিতে আসতে পেরেছে।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা অপার সম্ভাবনার কেন্দ্রস্থল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে এ বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। তাই বন্দর জেটি এলাকায় আট বা আট দশমিক ৫০ মিটার গভীরতার ড্রেজিং করার ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের সহায়তায় নয় দশমিক ৫০ থেকে ১০ মিটারের অধিক ড্রাফটের জাহাজ নির্বিঘ্নে হ্যান্ডল করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর সুফলে মোংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। জেটি এলাকায় ড্রেজিংয়ের ফলে এ বন্দরের গতিশীলতা আরও বাড়বে। জাহাজের আগমনও বাড়বে বলে জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার বলেন, মোংলা বন্দরের পিপি জেটিতে (পার্মানেন্ট পোর্ট জেটি) ৮ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্যে মেইন শিপিং লাইন “মার্স্ক লাইন” কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে এর ট্রায়াল শুরু হয়েছে। কন্টেইনার নিয়ে ৮ মিটার গভীরতার জাহাজ প্রথমবারের মত ৫ নম্বর জেটিতে ভিড়ে কন্টেইনার খালাস করেছে। তিনি আরও বলেন, এই ট্রায়াল সফল হলে আমাদের আর কোন দুঃশচিন্তা নেই। ভবিষ্যতে ৮ মিটারের অধিক গভীরতার জাহাজ এই জেটিতে ভিড়তে পারবে। এছাড়া জেটিতে নাব্যতা বাড়াতে প্রতিনিয়ত জেটি সংলগ্ন এলাকায় বন্দরের নিজস্ব ড্রেজার “ইমাম শাফি ও ইমাম বোখারী” দিয়ে ড্রেজিং করে জেটির নাব্য বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মুসা বলেন, এখন থেকে এ বন্দরে বড় বড় অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ অনায়াসে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এখানে সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

Lab Scan