নকল ‘পাওয়ার ক্যাপসুল’ নিয়ে পুলিশের সতর্কতা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ হাজার পিস সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল, পেথিডিন ইনজেকশন ছাড়াও দামি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের নকল ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল এই অভিযান চালায়। গ্রেপ্তাররা হলেন, মোহাম্মদ আবদুস সোবহান, মোহাম্মদ নাঈমুর রহমান তুষার, রিয়াজুল ইসলাম মৃদুল, মোসাম্মৎ নারগিছ বেগম ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রিন্টার, রঙের কৌটা, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও ব্যাচ নং লেখাসহ বিভিন্ন প্রকার সিল, একটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির ৩০০ পিস নকল ইনসুলিন, অ্যাক্ট্রাপিড ১০ মিলি ৬৫ পিস, জি পেথিডিন প্লাস্টিকের একটি ট্রে, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের জি পেথিডিন ইনজেকশনের ১ রোল ওয়ালপেপার (স্টিকার), প্রিমিয়ার ফার্মাসিটিক্যালসের অ্যালার্ট লেখা ওষুধের ফয়েল পেপার জব্দ করে। রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন একাধিক নামি-দামি কোম্পানির ওষুধের নাম ও মোড়ক নকল করে নিজস্ব পদ্ধতিতে বানিয়ে বাজারজাত করছিল এই চক্রটি। চক্রটি বিভিন্ন অখ্যাত ফার্মেসির মাধ্যমে জীবন ধ্বংসকারী এসব ওষুধ বাজারজাত করছিল। আর তাদের এসব ওষুধ পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল শিশুরা।
ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটি সাধারণত অখ্যাত ফার্মেসিগুলোতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ দিয়ে থাকেন। এদের টার্গেট নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের কাছেই উত্তেজক ওষুধসহ বিভিন্ন নকল ওষুধ সরবরাহ করতেন।’ তিনি বলেন, ‘পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান চলবে। কারা, কোন প্রক্রিয়ায় এসব নকল ওষুধ বানাচ্ছে এবং কিভাবে ফার্মেসিগুলোকে তা বিক্রির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানাই এখন আমাদের মূল টার্গেট। আশা করি, আমরা খুব দ্রুত এই চক্রকে ধরতে পারব।’ সবাইকে সাবধান করে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘নকল ও ভেজাল ওষুধ আপনার জীবননাশের কারণ হতে পারে। মোহের বশে এসব ওষুধ না কিনে ভাল মানের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনবেন। নকল ওষুধ মানুষের কোনো কাজে আসে না বরং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং সবাই সাবধান থাকবেন।’ তিনি আরও জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে দেশীয় পদ্ধতিতে তার গায়ে মেয়াদ, ব্যাচ নং, মূল্য ইত্যাদি নতুনভাবে সংযোজন করে পুনরায় বাজারজাত করতেন চক্রটির সদস্যরা।

ভাগ