নকল আসামিকে সাজা খাটানোর অভিযোগে রিমান্ডে আইনজীবী

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আসল আসামির পরিবর্তে নকল আসামিকে সাজা খাটানোর অভিযোগে আইনজীবী শরীফ শাহরিয়ার সিরাজীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরাফাতুল রাকিব এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শরীফ শাহরিয়ার সিরাজীকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আবু সাঈদ চৌধুরী। শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। জালিয়াতির ঘটনায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে অন্যের হয়ে জেলখাটা আসামি হোসেন ওরফে নকল সোহাগের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি প্রকৃত আসামি বড় সোহাগকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এসময় সোহাগ নামধারী হোসেনকে হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক। একই সঙ্গে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত নকল সোহাগসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বেঞ্চ সহকারী মিজানুর বাদী হয়ে নকল সোহাগ ও আসল সোহাগ এবং দুই আইনজীবীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর রাজধানীর কদমতলীতে টিটু নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সোহাগ ওরফে বড় সোহাগকে (৩৪)। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। পরে ২০১৪ সালের ১৬ মে জামিনে বেরিয়ে চলে যান আত্মগোপনে। ২০১৭ সালে পলাতক থাকা অবস্থায় সোহাগের যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। এরপর নিজেকে বাঁচাতে এবং দেশ থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে আসামি হিসেবে হোসেন নামের আরেক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠান সোহাগ। এজন্য চুক্তি হয় মাসিক পাঁচ হাজার টাকা। আদালত হোসেনকে ‘সোহাগ ভেবে’ জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে আসল আসামি সোহাগ দেশ থেকে পালিয়ে দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে নতুন করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তবে বিষয়টি বুঝতে পেরে আসল সোহাগকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে আসছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সবশেষ ২৯ জানুয়ারি টিকা দিতে এসে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সোহাগকে গ্রেফতার হন।

Lab Scan