ধানের দাম না পেয়ে সরিষা চাষে কৃষক

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। যা ল্যমাত্রার দ্বিগুন বলে জানা গেছে। ধানের প্রকৃত দাম না পাওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চৌগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষ হয়েছিল ১১ শ ৫০ হেক্টর জমিতে। দ্বিগুনের বেশি জমিতে চাষ হওয়ার একটিই কারণ কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া। মূলত এখানে টরি-৭, বারি-১৪ ও ১৫ ও রাই সরিষার চাষ বেশি লণীয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে অনেকে মনে করছেন।
চৌগাছার প্রতিটি এলাকায় কমবেশি সরিষার চাষ হয়। তবে জগদীশপুর, হাকিমপুর, ফুলসারা, নারায়নপুর, সুখপুকুরিয়া, স্বরুপদাহ ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি সরিষার চাষ হয়। সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল। এই ফসলটি উৎপাদনে এ জনপদের কৃষক বেশ পারদর্শী। সরিষার জাতের মধ্যে টরি-৭ কৃষকদের কাছে বেশি প্রিয়। কারণ হিসেবে জানা গেছে জমি প্রস্তুত করে বীজ বপনের দিন থেকে ৭০-৮০ দিনের মধ্যে এই জাতের সরিষা ঘরে তোলা সম্ভব হয়। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৯৫০ থেকে ১১০০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়। এই সরিষার বীজে তেলের পরিমান ৩৮-৪১ শতাংশ। জাতটি রোগবালাই সহনশীল, তাই চাষিদের কাছে খুবই প্রিয়।
চৌগাছার কদমতলা, তারিনিবাস, বেলেমাঠ, স্বরুপদাহ, বাঘারদাড়ি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ হলুদ ফুলের সমরোহ। প্রতিটি জমিতে সরিষার গাছগুলো ফুলে ভরে গেছে। সরিষা তে পরিচর্জায় ব্যস্ত কদমতলা গ্রামের ইসারত আলীর ছেলে কৃষক তোতা মিয়া। তিনি জানান, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। অল্পদিনে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। কম যতেœও ভাল ফলন হয়, সে কারণে কৃষক সরিষা চাষ তুলনামূলক বেশি করেন। এছাড়া ধানের কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা সরিষা চাষে বেশি মনোযোগী। তিনি বলেন, আগাম আমন চাষ করে ধান উঠার পরপরই ওই জমিতে কোন চাষ না দিয়ে সরিষা রোপন করা হয়। বিনা চাষে অল্প খরচে ভাল ফলন পান চাষিরা। সরিষা উঠার পর ওই জমিতে ইরি ধানের চাষ করা হবে। সে কারণে অল্প দিনে যে সরিষা ঘরে তোলা যায় সেই জাতের সরিষার চাষ বেশি করেন কৃষকরা। তোতা মিয়ার মত ওই মাঠে শাহাজান আলী ১৫ কাঠা, নজরুল ইসলাম ৫ বিঘা, শওকত আলী ১ বিঘা, শাহ আলম ১ বিঘা, হায়দার আলী ১০ কাঠা, আ. কুদ্দুস দেড় বিঘা, মতিয়ার রহমান ১ বিঘা, হাফিজুর রহমান ৩ বিঘা, মহিদুল ইসলাম ২ বিঘা, রমজান আলী ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, পাট কাটার পর জমি প্রস্তুত করে সরিষার চাষ করা হয়। এটেল দোআঁশ মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। পাট ও আমন ধানের জমিতে সরিষার চাষ বেশি লনীয়। পোকা মাকড়ের তেমন কোন উপদ্রব নেই সরিষার েেত। সময়মত সার ও প্রয়োজন বোধে সেচ দিলেই অল্প খরচে সরিষা চাষ করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইচউদ্দিন বলেন, সরিষা একটি অর্থকারী ফসল। বাজার দর ভাল থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকরা দিনদিন সরিষা চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। এই চাষ পদ্ধতিতে কৃষক যাতে কোন সমস্যার সম্মুখিন না হন সে জন্য কৃষি অফিস সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন।

ভাগ