দেশ হোক বিষাক্ত খাদ্যমুক্ত

‘সুস্থ দেহ, সুন্দর মন, উন্নত জীবন’, বাক্যটি শুনতে চমৎকার হলেও বর্তমান বাংলাদেশে তা নীতিবাক্যের যাদুঘরে স্থান পেতে চলেছে। পূর্বে আমাদের দেশে খাদ্য সঙ্কট ছিল, অর্ধাহারে-অনাহারে মানুষ দিন কাটাতো। খাদ্যাভাবে মানুষ মারা যাবার নজিরও ছিল। বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষির কারণে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনিরাপদ খাদ্যে দেশ সয়লাব হয়ে গেছে। কোনোভাবেই খাদ্যসন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি বিএসটিআই বাজারের কিছু পণ্য পরীা করে তা মানহীন বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু আজ যে পণ্যটি মানহীন বলে সরকারের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবেদন আকারে জানানো হয়, দু-একদিন পরেই আবার একই সংস্থা থেকে পণ্যটির গুণগত মান ঠিক রয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এমন কর্মকান্ড জনসাধারণের মনে যথেষ্ট উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে যা বলার অপো রাখে না। আবার বাজারে রয়েছে হাজার হাজার রকমের পণ্য। সাধারণ ক্রেতার জানার কোনো সুযোগ নেই কোন পণ্যটি মানহীন; কোনটিই বা গুণগত মানসম্পন্ন? টেলিভিশন, পত্রিকায় বা পোস্টারে দৃষ্টিনন্দন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিটি কোম্পানিই নিজেদের পণ্যকে বাজারের সব থেকে সেরা পণ্য হিসেবে দাবি করে থাকে। সাধারণ ক্রেতা বা ভোক্তার সাথে এটি এক ধরনের প্রতারণা। এমন বিজ্ঞাপনের ফলে ভোক্তারা দ্বিধায় ভুগে থাকেন। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় যে বিএসটিআইয়ের সীল বা লোগো দেওয়া থাকে অনেক পণ্যে অথচ সেসব পণ্য বাজারে বিক্রয়ের অনুমোদনই নেই। সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়মিত বাজার তদারকি না করার ফলে নামে-বেনামে বাধাহীনভাবে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় হচ্ছে, যা জনসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। হলুদের গুঁড়ায় ইটের গুঁড়া মেশানো, গুঁড়া মরিচে রং মেশানো এখন যেন নিত্যদিনের ব্যাপার। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতার অভাব দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রধান অন্তরায়। এছাড়াও সংস্থা দুটির পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব, আধুনিক ল্যাবরেটরির অনুপস্থিতিও অন্যতম কারণ। আবার আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়েও রাজনীতির নোংরা খেলা খেলে থাকেন। কিছুদিন পূর্বে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বিএনপি-জামায়াতের কাজ। সরকারদলীয় ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান থেকে ভেজাল দেওয়া হয় বলেও অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতাদের বক্তব্য শোনা যায়। জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এমন একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বাগযুদ্ধের সুযোগে খাদ্যসন্ত্রাসীরা নিজেদের কুকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে বিনা বাধায়।
উপরের লেখাটি বাজারে বিদ্যমান প্রতারণা বাণিজ্যের রকম ফের নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লেখার অংশ বিশেষ। পূর্ণাঙ্গ লেখায় তিনি ডিজিটাল বা অনলাইন বাণিজ্যের প্রতারণার আদ্পান্ত লিখেছেন। তার এই লেখায় সুস্থ মস্তিষ্কের কারো দ্বিমতে সুযোগ আছে বলে মনে করার কোন কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা জানি আমাদের দেশে এখন ভেজাল খাদ্য নিয়ে কী ভয়াবহ বাণিজ্য চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজাল ধরছে, জরিমানা করছে, ল্যাবে পাঠাচ্ছে। ল্যাব বলছে, খাদ্যে ক্যান্সারের উপাদান রয়েছে। উচ্চ আদালত বিক্রয় নিষিদ্ধ করে বাজার থেকে বিষাক্ত খাদ্য তুলে নেবার নির্দেশ দেয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভেজালের পক্ষে সাফাই গাওয়া হচ্ছে। আপিলে আদেশ স্থগিত হয়ে ভেজাল তালিকা পণ্য প্রত্যাহারে তিনমাস সময় মিলছে। কিন্তু ছয় মাসেও প্রত্যাহার হচ্ছে না। বরং বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এই বিষাক্ত পণ্য তালিকায় শিশুখাদ্য পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। ভাবনা নেই সরকারের। আমরা মনে করি, জাতির জন্য এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিকলঙ্গ হয়ে যাবে। রুগ্ন মানুষে ভরে যাবে দেশ। এটা চলতে দেয়া যায় না। সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নিয়ে দেশ বিষাক্ত খাদ্যমুক্ত করা।

ভাগ