দুদকের সুপারিশ কার্যকর হোক

সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত সত্য হচ্ছে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রধানতম বাধা দুর্নীতি। বাংলাদেশে এ সত্য এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে, শিশু শ্রেণিতেও এর কুফল পড়াতে হচ্ছে। কারণ দুর্নীতিই আজচ শুধু অগ্রযাত্রায়ই নয়, নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেবাপ্রাপ্তির েেত্রও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই দুর্নীতি সরকারি বিভাগ বা দপ্তরগুলোই প্রধানতম উৎস হয়েছে। পুলিশের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে, বিচারপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, গ্যাস-বিদ্যুতের অসিস— কোথায় নেই দুর্নীতি। এমনকি মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলেও ভর্তি থেকে শুরু করে সেবাপ্রাপ্তি পর্যন্ত পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি রোধে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের জালে অনেক রুই-কাতলও আটকা পড়েছে। কিন্তু দেশব্যাপী দুর্নীতির যে মহীরুহ বিস্তার লাভ করেছে, তার মূলোৎপাটন কি দুদকের পে সম্ভব? অনেকেই তা মনে করে না। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা এবং দুর্নীতিবিরোধী সমন্বিত উদ্যোগ। দেশে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে এবং তাতে দুর্নীতি রোধে ১২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দুদকের সুপারিশগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুদকের প্রতিবেদনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, আয়কর, হিসাবরণ অফিস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ, সরকারি নিয়োগ, আইন-শৃঙ্খলা রাসহ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতির উৎসগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে বেশির ভাগ নাগরিকেরই নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পুলিশ বিভাগে বিদ্যমান দুর্নীতি। সর্বশেষ নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায়ও আমরা তার আলামত দেখেছি। এসংক্রান্ত দুদকের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। সরকারি নিয়োগের প্রতিটি েেত্র দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগের বদলে দুদকের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সংবিধান অনুসারে একাধিক কর্মকমিশন সৃষ্টি করে তার মাধ্যমে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, এতে নিয়োগপ্রত্যাশীদের হয়রানি যেমন কমবে, তেমনি দুর্নীতিও বহুলাংশে কমে যাবে। প্রতিবেদনে আরো অনেক েেত্র দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার ল্েয প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকার দাবি করছে, দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে। হয়তো তা অনেকাংশেই ঠিক, কিন্তু সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে যাবে যদি রাহুগ্রাস দুর্নীতির রাশ টানা না যায়, যদি নাগরিকরা সেই অগ্রগতির সুফল না পায়। আমরা মনে করি, সরকারের নীতিনির্ধারকরা জরুরি ভিত্তিতে দুদকের সুপারিশগুলো বিবেচনা করবেন এবং সম্ভাব্য েেত্র দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদপে নেবেন।

ভাগ