দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিএড স্কেল বাতিলের সুপারিশ

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনিমহলস্থ বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন স্টার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের দু শিক্ষকের বিএড স্কেল বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এই দু শিক হলেন, গাজী লুৎফর রহমান (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) ও সৈয়দ আমিনুর রহমান। একই সঙ্গে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকাসহ বর্তমান পর্যন্ত অতিরিক্ত গ্রহণকৃত টাকা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পলাশ বাকচি স্বাক্ষরিত একপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।  এ নির্দেশনার কপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্ম সচিব (অডিট অধিশাখা), বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন-বিজেএমসি চেয়ারম্যান এবং স্টার জুট মিলস লিমিটেটের প্রকল্প প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২৬ মে স্টার জুট মিলস লিমিটেডের প্রকল্প প্রধানের কাছে নির্দেশনার এ কপি এসে পৌঁছালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রহস্যজনক কারণে এ নির্দেশ কার্যকর করতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে।
বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের (সেক্টর-৬, খুলনা, দল নং-৪) নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ অফিসার কাজী খসরুল হাসান স্বাক্ষরিত ২০১৬ সালের ১২ নভেম্বরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্টার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) গাজী লুৎফর রহমান ও সৈয়দ আমিনুর রহমান ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় বেতন স্কেল-১৯৯৭ এর ১৮৭৫ টাকা বেতন স্কেলে প্রাইমারি শাখার সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। যা ২০০৯ সালে ৪ হাজার ৭শ টাকা, পরবর্তী উচ্চতর বেতন স্কেল ৫ হাজার ৯শ টাকা এবং ২০১৫ সালে করেসপন্ডিং স্কেল ৯ হাজার ৩শ টাকা। কিন্তু ওই দু শিক্ষককে কোনো পদোন্নতি প্রদান না করে এবং বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই শুধুমাত্র মিলের নোট শিটের মাধ্যমে ২০১০ সালের ১ জুলাই তাদেরকে সহকারী শিক্ষক (প্রাইমারি শাখা) থেকে সহকারী শিক্ষক (উচ্চ বিদ্যালয়) শাখায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ৪ হাজার ৭শ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪শ টাকা বেতন স্কেল করা হয়। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের স্কেলে ৬ হাজার ৪শ টাকার করেসপন্ডিং স্কেল ১২ হাজার ৫শ টাকা এবং বিএড স্কেলে ৮ হাজার টাকার করেসপন্ডিং স্কেল ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া টাইম স্কেলের কোনো ধরনের অনুমোদন নথিতে পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগের পরে উল্লিখিত দু শিক্ষক বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তাতে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন নেই। এছাড়া ২০১৬ সালে ইফজিসির ঘোষণা অনুযায়ী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ২০০৬ সালের পর দেওয়া সব সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়। এ কারণে তাদের বিএড সার্টিফিকেট বাতিলযোগ্য বলে প্রতীয়মান হবে। সে ক্ষেত্রে বিএড স্কেল অর্জনের জন্য কোন সুবিধাপ্রাপ্ত না হওয়ায় যুক্তিসঙ্গত।  স্টার জুট মিলস লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান শাওন মাহমুদ এ ধরনের নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঈদের আগে নির্দেশনা হাতে পেয়েছি, ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, সময়ক্ষেপণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, স্টার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) গাজী লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি এর চেয়ে মাথাপিছু ৫শ টাকা করে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা গ্রহণের ঘটনায় বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর গাজী লুৎফর রহমানকে স্টার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাজশাহী পাটকল উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির দপ্তর আদেশ মোতাবেক তাকে দু সপ্তাহের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ অবধি কর্মস্থল ছাড়েননি তিনি।

ভাগ