দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে চাল

লোকসমাজ ডেস্ক॥ একটি পণ্যের দাম বাড়ছে তো আর একটি পণ্যের দাম কমছে। পণ্যের দাম বাড়বে কমবে এটাই বাজারের রীতি। চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের জোগান থাকলেই দাম কমে। আর চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য না থাকলে বেড়ে যায় দাম। কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়ছে সেটাই দেখার বিষয়।
কিছুদিন আগে বেড়েছিল সবজির দাম। বাজারে শীতের সবজি আসায় আস্তে আস্তে সেটা নেমে এসেছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। বেড়েছিল পেঁয়াজের দাম। তেমন একটা না কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে পেঁয়াজের বাজার। কিছুদিন ধরেই দাম বেড়ে চলেছে তেল, চিনি ও ডালের। আর দাম কমার সম্ভাবনা নেই আদা-রসুনের। তবে এবার নতুন করে দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে চাল। যা দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য।
শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, সেগুনবাগিচা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা যায়।
প্রায় মাসখানেক সময় ধরেই একরকম স্বাভাবিক রয়েছে কাঁচাবাজার। শীতকালীন সবজির মৌসুম হিসেবে যতটা দাম কমা দরকার ততটা না কমলেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে মানুষের মনে। কারণ বাজারে প্রায় প্রতিটা সবজি মিলছে ৫০ টাকার মধ্যে।
মিরপুর-২ নাম্বার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গাজর এবং শসা বিক্রি হচ্ছে একই দামে। এদিকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর মুলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। পাশাপাশি একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা ও ধুন্দুল। তবে কিছুটা বেশি দাম পেঁপের। কারণ প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। যেখানে অন্যান্য সবজির দাম অনেক কম সেখানে পেঁপের দামটা একটু সবার থেকে বেশি।
বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া শালগম ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া (ছোট) ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লাউয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহের যে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
এদিকে গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর বিদেশি চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
তবে বেড়েছে চালের। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন দফায় বেড়েছে মিনিকেট চালের দাম। প্রতিটি ৫০ কেজি বস্তায় দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ টাকা। এছাড়া অন্যান্য চালের দামও বস্তা প্রতি প্রায় একশ টাকা থেকে দেড়শ টাকা করে বেড়েছে।
দাম বাড়ার পর রশিদ রাইস মিল থেকে এখন মিনিকেটের ৫০ কেজির বস্তা ২৩৫০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫০ টাকা খরচের পর বিক্রি করতে হচ্ছে ২৪০০ টাকার উপরে। মাঝখানে মিলে মিনিকেটের বস্তা দাম ২১৫০ টাকায় নেমেছিল। নতুন মওসুমের মোটা চালের দামও ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। নতুন মৌসুমের আটাশ চালের দাম ৫০ কেজির বস্তা ১৫৫০ টাকা, গত বছরের পুরাতন আটাশ ১৭২০ টাকা। স্বর্ণা ও গুটির দাম ৫০ টাকা করে বেড়েছে। স্বর্ণা ১৪৫০ টাকা, গুটি ১৩৫০ টাকায় ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫৯ টাকা হলেও খুচরায় তা বিক্রি হচ্ছে ৫৩ টাকা থেকে ৫৪ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিনিকেট চাল এখন মৌসুমের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। আগামী এপ্রিলের দিকে মিনিকেট চালের নতুন ধান আসবে। বোরো ধান উঠার আগে এই দাম আর কমবে না।
এদিকে এ সপ্তাহে না বাড়লেও দাম বেড়েছে চিনির। এক মাসের মধ্যে চিনির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। এর আগে যে চিনি বাজারে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা। আর প্যাকেট জাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকায়। একইভাবে এই সপ্তাহের নতুন করে দাম না বাড়লেও বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ৯৮ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। আর প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। যা এর আগে বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে মাছের বাজারেও কিছুটা দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। প্রতি কেজি কাচকি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, মলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এছোড়া গত সপ্তাহের মতোই বাজারে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। পাকিস্তানি কর্ক মুরগি ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ডজন এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা হালি।

ভাগ