দর্শনা পৌরসভার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ॥ ঠিকাদারের নামে চেক ইস্যু করে জালিয়াতির মাধ্যমে এডিবি ও বিশেষ বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দর্শনা পৌরসভার ক্যাশিয়ার সৈয়দ মো. রুমি আলম ও সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান বুধবার (২২মার্চ ) দুপুরে এই মামলা করেন। মামলার আসামি ক্যাশিয়ার সৈয়দ মো. রুমি আলম চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার সৈয়দ কামরুল আলমের ছেলে। অন্যদিকে সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম আব্দুস সামাদ চুয়াডাঙ্গার বুজরুক গড়গড়ি এলাকার সিএন্ডবিপাড়ার এসএম আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায় কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে দর্শনা পৌরসভা এলাকার চারটি রাস্তা সংস্কারের জন্যে টেন্ডার আহবান করা হয়। দাখিলকৃত দরপত্রের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে দর্শনার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মেসার্স জয়নাল আবেদীন ও কলেজপাড়ার নাজমুল হুদাকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, টেন্ডারকৃত রাস্তার মধ্যে দুটি রাস্তা এলজিইডির আইডিভুক্ত রাস্তা যা ডিঙ্গেদহ-শংকরচন্দ্র ইউপি-মাখালডাঙ্গা-দোস্তেরহাট-কোটালিপাড়া-দর্শনা রাস্তা হিসেবে পরিচিত। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ওই রাস্তা দুটি চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি বন্যা ও দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পল্লীসড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়। ঠিকাদাররা ওই রাস্তার কাজ না করা সত্ত্বেও প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন দেখিয়ে ক্যাশিয়ার সৈয়দ মো. রুমি আলম ও সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম আব্দুস সামাদ ভুয়া বিল -ভাউচার তৈরি করে নিজেরাই চারটি চেকের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা তুলে নেন। তারা এই টাকা দামুড়হুদা সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে বেয়ারার চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। ফলে পরস্পর যোগসাজসে অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতি, প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করায় তাদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের ঝিনাইদহ জেলা সমন্বিত অফিসের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরেজমিন তদন্ত ও দপ্তরের কাগজপত্রে জালিয়াতির তথ্য মিলেছে। তারা এডিবি সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দের (জিওবি) টাকা আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে প্রতিয়মান হয়।

Lab Scan