তালায় শ্রমিক বহনকারী পিকআপ উল্টে দুজন নিহত : আহত ৯

0

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় ধান কাটা শ্রমিক বহনকারী পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মঙ্গলবার (১৬ মে) ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কুমিরা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শ্রমিকরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে সুমন হোসেন (৩৫) ও একই উপজেলার জয়নগর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৪৬)।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ইয়াসিন আলী (১৯), সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের নেছার আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০) ও একই উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে ইমন হোসেন (১৯)। এছাড়া সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তাপশ কুমার দাশ (৪০), শাহিদুল ইসলাম (৩৫), মামুন হোসেন (২৩), মো. শাহিন (২১) ও ফরিদা বেগম (৫০)। আহত আরও ৯ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শ্রমিক তাপশ কুমার দাশ জানান, তারা ২৪ জন সাতক্ষীরা থেকে ধান কাটতে শরিয়তপুর গিয়েছিলেন। মজুরি হিসাবে পাওয়া ধান নিয়ে সোমবার রাতে একটি পিকআপ ভাড়া করে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন। কিন্তু পিকআপটি চালাচ্ছিল হেলপার। নিষেধ করার পরও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ভোর ৫টার দিকে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কুমিরা বাজারের কাছে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে পিকআপটি উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে পিকআপে থাকা ১৯ জন শ্রমিক আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রমিক সুমন হোসেন ও পরে আরেক শ্রমিক আবুল হোসেন মারা যান। আহত আরও ৯ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাশেদুজ্জামান সুমন জানান, আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে আনার পর সুমন হোসেন মারা যান। সকাল সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবুল হোসেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাশি বিশ্বাস জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯ জনকে সামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিত কুমার আধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Lab Scan