তালায় মমতাজ হত্যাকাণ্ডে মেয়েকে আসামি করে পুলিশের মামলা

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামে মেয়ের হাতে মা খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার এস.আই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে নিহতের মেয়ে টুম্পা খাতুন (২৪) ওরফে মারিয়াকে একমাত্র আসামি করে পাটকেলঘাটা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন।
এদিকে, ঘটনার রাতে মমতাজ খাতুনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে আসার পর এলাকা ছেড়ে কৌশলে পালিয়ে যায় টুম্পা খাতুন। এরপর থেকে টুম্পাকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। মায়ের লাশ দাফনের সময়ও টুম্পা নিহত মায়ের পাশে ছিল না। মমতাময়ী মায়ের শেষ মুখটুকুও সে দেখিনি। পুলিশ শুক্রবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত টুম্পা খাতুনকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, মমতাজ বেগম হত্যাকান্ডের ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার এস.আই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে নিহতের মেয়ে টুম্পা খাতুনকে একমাত্র আসামি করে এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেছে। তিনি বলেন, লাশের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে বিধায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। আসামি টুম্পা খাতুনকে গ্রেফতারের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে নগরঘাটা গ্রামের মৃত আব্দুর সবুর সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা কন্যা টুম্পা খাতুন পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মা মমতাজ খাতুনকে (৫০) ঝগড়ার এক পর্যায়ে রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে মমতাজ খাতুন মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতে খুলনার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তার মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে এলাকায় প্রচার দেয় মেয়ে টুম্পা খাতুন। পুলিশ ঘটনার রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরই মধ্যে কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় টুম্পা খাতুন।  টুম্পা খাতুনের বিয়ে হয় সাতক্ষীরার সংরক্ষিত আসনের এমপি মিসেস রিফাত আমিনের ছেলে রুমনের সাথে। প্রায় আড়াই বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। টুম্পা খাতুন প্রায় তার মাকে মারধর করতো। স্বামাীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে টুম্পা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। উছৃঙ্খল জীবন ছিল তার। তার একমাত্র ভাই শরীফও নেশাগ্রস্ত। টুম্পার একটি ৩ বছর বয়েসের ছেলে রয়েছে।

ভাগ