তালায় অনাবৃষ্টি কারণে পাট জাগ দেয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় চাষি

0

 

সেলিম হায়দার, তালা (সাতক্ষীরা) ॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত দুই বছর দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা আবার পাট চাষে ঝুঁকেছেন। কিন্তু অনাবৃষ্টি জন্য পাট জাগ দেয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পাট চাষিরা।
তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শুভ্রাংশু শেখর দাশ জানান, চলতি বছর উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
এদিকে ভরা বর্ষায় কোনো খাল-বিলে পানি নেই, তাই পাট জাগ দেয়ার (পচানোর) পানি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এখনই পানির ব্যবস্থা না হলে যেটুকু ফলন হয়েছে, তা আর ঘরে তোলা যাবে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাট কোথাও ৪ থেকে ৫ ফুট লম্বা আবার কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট লম্বা হয়েছে। পাটের ফলনও বেশ ভালো। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক পর থেকে পাট কাটা শুরু হবে। এ বছর পাটের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে পাটের ন্যায্য দাম ও জাগ দেয়ার (পচানোর) নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পাটচাষিরা।
হাজরাকাটী গ্রামের পাটচাষি শের আলী সরদার বলেন, তিনি দুইবিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। ন্যায্যমূল্য পেলে খুশি হবেন। তবে সরকারিভাবে পাট কিনলে তাদের জন্য ভালো হয় বলে জানান তিনি।
লক্ষণপুর গ্রামের পাটচাষি আব্দুর রহমান শেখ বলেন, গত বছর তিনি এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। দাম ভালো পাওয়ার কারণে এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন, ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হলেও পাটের দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
আরেক পাটচাষি জাহাঙ্গীর মোড়ল বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাটের ন্যায্য দাম নিয়ে তিনিও শঙ্কায় আছেন। তিনি আরো বলেন, খাল-বিলে পানি নেই, তাই পাট জাগ দেয়ার পানি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
তালা বাজারের পাট ব্যবসায়ী আব্দুল রশিদ বলেন, সপ্তাহ খানেক আগেও পুরোনো পাটের দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাট আরো কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন পাট উঠলে ২ হাজারের নিচে নেমে আসবে বলে ধারণা করছেন এই পাট ব্যবসায়ী।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকরা যাতে যথাযথভাবে ও স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল পাট উৎপাদন করতে পারেন এ জন্য প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পাটকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমাণ ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এসব কারণে পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। পাটের ন্যায্যমূল্য পেলে চাষিদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ আরো বাড়বে বলেও জানান তিনি।

 

 

Lab Scan