তরিকুল ইসলাম ছিলেন ত্যাগী পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ : ঢাকায় স্মরণ সভায় বক্তারা

খালিদ সাইফুল্লাহ ॥ তরিকুল ইসলাম ছিলেন ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। ছাত্র জীবন থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি জাতীয়তাবাদের একজন সাচ্চা সৈনিক ছিলেন। খেটে খাওয়া মানুষের নেতা ছিলেন। তার মতো রাজনীতিবিদ আমাদের মাঝে আর পাবো কি না জানি না। আজকে দেশ বাঁচাতে হলে তার মতো রাজনীতিবিদদের আদর্শ সামনে রেখে এগোতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলে জাতীয় প্রেসকাবের তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর দণি বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মরহুম তরিকুল ইসলামের স্ত্রী মিসেস নার্গিস বেগম।
বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকতুল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, হারুন অর রশিদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তাইফুল ইসলাম টিপু, শিরিন সুলতানা, মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, শেখ রবিউল আলম রবি, ওমর ফারুক সাফিন, হাসান মামুন, খান রবিউল ইসলাম রবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, গোলাম সারোয়ার, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান ও মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের নেতা ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম। আজকে আরেকজন জনদরদী নেতা ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে আমরা হারিয়েছি। তাদের চলে যাওয়া যদি সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে হতো তাহলে আমরা কিছু মনে করতাম না। কিন্ত তাদের মৃত্যু কষ্টের। তাদেরকে মামলা দিয়ে এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতন করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমগ্র রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর রাতেই মতা দখল করেছে। তারা আজ দেশকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করার চক্রান্ত করছে।
তিনি বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। একটিমাত্র উদ্দেশ্য, তারা এই রাষ্ট্রকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ফলে কয়দিন আগে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বলেছে- বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। তারা বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট ও টাকা পাচার হচ্ছে। দেশ থেকে যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে তা দিয়ে পাঁচটি পদ্মাসেতু করা যেত।
বিএনপি মহাসচিব সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই সরকার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসন ধ্বংস। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। এই সরকার মতায় আসার পর যখন পঞ্চদশ সংশোধনী করা হলো তখনই তিনি বলেছেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে পরিণত করা হবে এবং এখন তাই চলছে। তবে জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। সুতরাং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। একটি নিরপে সরকারের অধীনে এবং নিরপে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের ল্য। আসুন সেই ল্েয আমরা সবাই আত্মত্যাগ করি, মনোনিবেশ করি।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন ত্যাগী ও পরীতি রাজনীতিবিদ। তার সাথে কারাগারে একসাথে জেল খেটেছি। কারাগারে থাকাকালে তার পরিবার যখন উদ্বিগ্ন তখন তিনি সবাইকে স্বান্তনা দিতেন। কখনো দুশ্চিন্তা না করে উৎসাহ প্রদান করতেন, সাহস যোগাতেন। ছাত্র জীবন থেকে শেষ পর্যন্ত তরিকুল ইসলাম একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদের সৈনিক ছিলেন। আজকে দেশ বাঁচাতে হলে তার মতো রাজনীতিবিদদের আদর্শ সামনে রেখে এগোতে হবে।
মওদুদ আহমদ বলেন, তরিকুল ইসলামের মতো রাজনীতিবিদ আমাদের মাঝে আর দেখিনা। আর পাবো কি না জানি না। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন বিলাসিতা করনেননি। তেমনই তরিকুল ইসলামও কখনো বিলাসিতা করনেননি। বহুবার জেল খেটেছেন। নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কিন্তু মিতব্যয়ী ছিলেন। আজকের এই দিনে আমি তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, আজকে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। তা চলে গেছে দুর্বৃত্তদের হাতে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার নাই। জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মতো সরকার নেই বলে সমাজে নৈরাজ্য, শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণ, দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে। এর থেকে দেশকে রা করতে হবে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ ইদানিং যে সকল কাজকর্ম করছে এই যে ক্যাসিনো জুয়া এসব সভ্যতা এসব সংস্কৃতি আমাদের মাঝে আগে কখনোই ছিল না। এটা হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে রাজনীতিতে শূণ্যতা বিরাজ করছে সেই কারণে। দীর্ঘ দিনেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। তবে তিনি মুক্তি পাবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার শপথ নিই, বলেন মওদুদ আহমদ।

ভাগ