ঢাকার আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ চালকের লাশ মিললো কুষ্টিয়ায়, প্রাইভেটকার উদ্ধার যশোরে

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ এক সপ্তাহ আগে রাজধানী ঢাকার আশুলিয়ার জেরবো এলাকা থেকে নিখোঁজ ভাড়ায়চালিত প্রাইভেটকার চালক কামরুল ইসলামের (৪৫) লাশ কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া এলাকায় উদ্ধার হয়েছে। অবশ্য প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরনের পোশাক দেখে লাশটি কামরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন স্বজনেরা। আর নিহত কামরুল ইসলামের প্রাইভেটকারটি যশোরের ঝিকরগাছা থানার পুলিশ উদ্ধার করে। ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর হাওয়ার মোড় থেকে এই প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
ঝিকরগাছা থানা পুলিশের ওসি সুমন ভক্ত জানান, গত ৯ জুন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শ্রীরামপুর হাওয়ার মোড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করেন তাদের এসআই অমৃত লাল দাস।
এসআই অমৃত লাল দাস জানান, ওই প্রাইভেটকারের মালিক ঢাকার এক ব্যক্তি। প্রাইভেটকারে থাকা জিপিএস চালু ছিলো। এ কারণে ঝিকরগাছায় প্রাইভেটকারের অবস্থান জানতে পারেন গাড়ির মালিক। পরে তিনি ঝিকরগাছায় এসে গাড়িটি তার বলে শনাক্ত করেন।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ওই প্রাইভেটকারের চালক মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার শিরগ্রাম পশ্চিমপাড়ার চান মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ঢাকার আশুলিয়ার জেরবো কলেজ রোডে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। গত ৮ জুন রাত সাড়ে সাতটার দিকে কামরুল ইসলাম জেরবো এলাকা থেকে নিখোঁজ হন মর্মে তার স্ত্রী শাবানা আজমী ১১ জুন আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। তিনি বলেন, প্রাইভেটকারের জিপিসি চালু থাকায় এর সর্বশেষ চলাচলের রুট সহজেই পাওয়া যায়। জিপিসি ট্রেকার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৮ জুন রাত দশটার দিকে প্রাইভেটাকারটির অবস্থান ছিলো গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায়। তখন চালক কামরুল ইসলামের মোবাইল ফোন নম্বর সচল ছিলো। এরপর তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রেকার থেকে আরও জানা যায়, কালিয়াকৈর থেকে প্রাইভেটকারটি সিরাজগঞ্জ, নাটোর, যমুনা সেতু এবং পাবনা হয়ে কুষ্টিয়ার ইবি থানা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর প্রাইভেটারটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর হয়ে যশোরের চৌগাছার ছুটিপুর রাস্তায় দিয়ে ঝিকরগাছায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে আশঙ্কার ভিত্তিতে ওইসব থানা এলাকায় খোঁজ নেওয়া হয় তারা কোনো লাশ পেয়েছে কি না। যশোরের ডিবি পুলিশের কাছ থেকে মেসেস পেয়ে কুষ্টিয়ার ইবি থানার পুলিশ জানায়, তারা অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ পেয়েছিলো। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ইবি থানা পুলিশের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে মৃত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই ছবি নিখোঁজ কামরুল ইসলামের পরিবারকে দেখানো হয়। এ সময় কামরুল ইসলামের স্ত্রী শাবানা আজমী নিহতের মুখ বিকৃত থাকায় পরনের প্যান্ট দেখে লাশটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।
নিহত কামরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুল ইসলাম প্রত্যয় জানান, তারা কুষ্টিয়ার ইবি থানায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে জানতে পারেন, গত ১২ জুন পুলিশ বিত্তিপাড়া থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ দাফন হয়ে যাওয়ায় পুলিশের কাছে থাকা প্যান্ট ও গামছা দেখে শনাক্ত করেন নিহত ব্যক্তিটি তার পিতা। পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষা করবে বলে তাদেরকে জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাইভেটকারের মালিক ঢাকার মাসুদ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি।
ডিবি পুলিশের এসআই মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গত ৮ জুন রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কামরুল ইসলামের মোবাইল ফোন নম্বর সচল থাকায় ওই সময় তিনি জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি খুন হন। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা প্রাইভেটকারে লাশ নিয়ে কুষ্টিয়ার ইবি থানা এলাকায় ফেলে যায়। পরে দুর্বৃত্তরা যশোরের ঝিকরগাছায় এসে প্রাইভেটকারটি রেখে চলে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কী কারণে কারা কামরুল ইসলামকে খুন করেছেন বিষয়টি তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

 

 

 

Lab Scan