ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন মহামারী রূপ ধারণ করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই এখন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী। ইতোমধ্যে দুয়েক জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। মূলতঃ রাজধানীতে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গু। জ্বরে আক্রান্ত অনেকের শরীরেই পাওয়া যাচ্ছে ডেঙ্গুর ভাইরাস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সংক্রমণ বাড়ছে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য নতুন ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে হৃদযন্ত্র অচল করার মতো মায়োকার্ডিটিস বা সংক্রমণের মাধ্যমে হিপণ্ডের পেশির প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে ঢাকার এক শীর্ষ দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪২৮ জন। এর মধ্যে জুনে আক্রান্ত হয়েছিল ২৯৫ জন। মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। এ বছর একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭১৩ জন, যা গত বছর জুনে আক্রান্তের চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি। সরকারি হিসাবে এ বছরের শুরু থেকে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় দুই হাজার ৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩২৬ জন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এডিস মশা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশে এই রোগটির প্রকোপ থাকছে প্রায় বছরজুড়ে। অথচ ডেঙ্গু প্রতিরোধের ল্েয শুধু এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়েই গলদঘর্ম হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশন। বিশ্বের ডেঙ্গুপ্রবণ ২০টি দেশে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নিয়ে কাজ চলার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক চালু করা হয়েছে। এ েেত্র পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। দেশের ওষুধ খাতে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চললেও তা চালু করা যাবে কি না সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে পারছে না সরকারি সংস্থাগুলো। অন্যদিকে বাসাবাড়ির পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেওয়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো কর্মসূচি নেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। প্রবেশাধিকার না থাকার অজুহাতে বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে না সংস্থা দুটি। শুধু এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর দিকেই মনোযোগ তাদের। নগরবাসীকে সচেতন করাকেই একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছে সিটি করপোরেশন। সে ল্েয সচেতনতামূলক কর্মসূচি, লিফলেট বিতরণ, গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ নানা ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এডিস মশার প্রজনন মৌসুমে এর বাইরে তাদের আর কোনো কর্মসূচি নেই।
এদিকে আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ডেঙ্গু এখন রাজধানী নয়, দেশের প্রধান প্রধান শহরের ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটের পর এই যশোরের ডেঙ্গুর রোগীর সন্ধান মিলেছে। এখনই প্রতিরোধ না হলে সময়ের ব্যবধানে এটা বিপজ্জনক মাত্রায় যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা এ অনাকাক্সিত আতঙ্ক চাই না। আমরা চাই, ডেঙ্গুর প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করে মানুষকে রক্ষা করা হোক।  আমরা জানি, এডিস মশা প্রতিরোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। বাসাবাড়িতে অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পানির চৌবাচ্চা, নিচু জায়গা, গ্যারেজে গাড়ির টায়ার ইত্যাদিতে যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সংশিষ্ট সংস্থাগুলোরও দায়িত্ব আছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে। আমরা আশা করবো, তারা সরকার কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে।

ভাগ