ডাকসু : ভোট কারচুপির ধারাবাহিকতা

মুজতাহিদ ফারুকী
ইলেকশন বা নির্বাচন বলে যে একটা শব্দ আছে সেটা বাংলাদেশে বোধহয় আর বাস্তবে থাকছে না। মনে হয় এই শব্দটিকে আমরা ডিকশনারির পাতায় সুন্দর করে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছি। শব্দটা ডিকশনারিতে থাকবে। কবিরা যেমন কখনো কখনো পুরনো অব্যবহৃত শব্দ তুলে এনে কবিতায় ভিন্নতর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেন তেমনি নির্বাচন শব্দটি আমরা আমাদের জীবনের প্রবহমানতায় মাঝে মধ্যে নেড়েচেড়ে দেখব। মনে মনে নিজের শার্টের কলার ঝাঁকিয়ে নিজেকেই বাহবা দেব, আরেব্বাহ, কী সুন্দর একটা জিনিস দেখালাম নতুন প্রজন্মকে! কথাগুলো মনে জাগল ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে। সর্বশেষ, দু’টি নির্বাচন হলো দেশে। একটি হলো উপজেলা নির্বাচন, যার প্রথম ধাপে গত রোববার ৭৮টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। আরেকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন, যা গত সোমবার অনুষ্ঠিত হলো। মানুষ এখন ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে; কারণ আগের রাতেই যেখানে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হচ্ছে, কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারকে শুনতে হচ্ছে, ‘আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে, বাড়ি চলে যান’, সেখানে কে কষ্ট করে ভোট দিতে যায়? উপজেলা নির্বাচনে তাই কোনো ভোটার কেন্দ্রে যায়নি। এমনও কেন্দ্র ছিল যেখানে ভোটগ্রহণের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ৩৬ জন আর ভোট পড়েছে ৪০টি। রাতে ‘বাক্স ভরার নির্বাচন’ হয়েছে বেশির ভাগ জায়গায়।
কিন্তু ডাকসুর ব্যাপারটা ভিন্ন হতে পারে বলেই অনেকের ধারণা ছিল। ডাকসুকে অনেকে ভালোবেসে দেশের ‘মিনি পার্লামেন্ট’ বলেন। আর সে কারণেই দেশবাসী আশা করেছিলেন যে, ডাকসু নির্বাচন হয়তো অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। দেশবাসী মনে করেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু যেকোনো কৌশলেই হোক ক্ষমতাসীনরা বহাল রয়ে গেছেন সেহেতু তারা হয়তো নির্বাচনের একটি উপরিকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও ডাকসুতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রাখবেন। ভরা পেটে বাঘ-সিংহও তো শিকার ধরে না! কিন্তু তা হয়নি। বরং যেমনটা আশঙ্কা করা গিয়েছিল, ঢাবি ভিসি এবং প্রশাসন একটি ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনার সব রকম উদ্যোগ-আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। সেটাই করে দেখালেন। তারা নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনো সংগঠনের কোনো দাবি, সুপারিশ, অনুরোধ কিছুই মানেননি। বলা হয়েছিল ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থানের কোনো পরিবেশ নেই। বলা হয়েছিল, সব হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকার কারণে হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে সেখানে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কারচুপির সুযোগ থাকবে। তাই হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র করা হোক। ভিসি ও প্রশাসন বলেছে, না ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ আছে; বলেছে, ভোটকেন্দ্র হলেই করা হবে। হয়েছেও তাই। বলা হয়েছিল, হলের ভোটকেন্দ্রে আগের রাতেই যেন ব্যালট বাক্স পাঠানো না হয়। ভিসি ও প্রশাসন আগের রাতেই ব্যালট বাক্স পাঠিয়ে দিয়েছেন। বলা হয়েছিল, ‘ঠিক আছে, আগের রাতে ব্যালট বাক্স পাঠানো হলে সকালে ভোট শুরু হওয়ার আগে খালি বাক্স সবাইকে দেখিয়ে যেন সেগুলো স্থাপন করা হয়।’ ভিসি ও প্রশাসন সে কথায় কান দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। পৃথিবীর কোথাও কোনো নির্বাচনে অংশীজনের কোনো একটি দাবি, সুপারিশ, অনুরোধও না মেনেই ভোটগ্রহণ করা হয়েছে এবং তার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে- এমন ঘটনা সম্ভবত নজিরবিহীন। বাংলাদেশের মিনি পার্লামেন্টখ্যাত ডাকসুতেই এমন অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করা হলো। ডাকসু নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে না, তার সব আলামত দিনের আলোর মতো স্পষ্ট থাকার পরও বাম সংগঠনগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর একটা ব্যাখ্যা আছে। সেটা হলো, বিএনপি-জামায়াতের মতো ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলের চেয়ে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ এবং ‘প্রগতিশীল’ বলে কথিত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য মন্দের ভালো। নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন তো ইহকালে দেখতে পাবেন না, কিন্তু ফাঁকতালে আওয়ামী লীগকে দিয়ে যদি জনমনের ধর্মীয় চেতনা ও প্রভাব ইত্যাদি কিছুটা হলেও ধসিয়ে দেয়া যায় তাতে তো বামদেরই লাভ। কিন্তু বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন এই নির্বাচনে অংশ নিল এবং নির্বাচনে কারচুপির পুরো নাটক দেখা পর্যন্ত থেকে গেল, সেটিই এক রহস্য। কালের প্রবাহে সেই রহস্য হয়তো কোনো দিন উন্মোচিত হবে। কিন্তু আমরা দেখি কী পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আমরা জেনেছি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছে। তারা সবাই একবাক্যে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। ভোট বর্জনের পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার থেকে সব ক্লাস বন্ধ করে ছাত্র ধর্মঘট পালনের ডাক দিয়েছে তারা।
গত সোমবার অর্থাৎ নির্বাচনের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখ্যান করেন বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। এ সময় অন্য প্যানেলের প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিনিধিরাও মধুর ক্যান্টিনে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এদিকে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনিÑ এমন অভিযোগে ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে সরকার সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা এই প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ করতে হবে।’ ক্ষমতাসীনদের সহযোগী, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব শামীমও বলেন, ২৮ বছর পর হওয়া এ ভোট নিয়ে মানুষের অনেক আশা ছিল। তবে সেই আশা পূরণ করতে পারেনি প্রশাসন। ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এই ভোট বাতিল করে আবারো ভোটের আয়োজন করতে হবে।
অন্যদিকে, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা পুনরায় ভোটের দাবি জানাচ্ছি। পরে নিজেদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এদিকে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবন ঘেরাও করে ছাত্রদল। চার প্যানেলের প্রার্থী সমর্থকেরাও পরে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানব না’ সেøাগান দেন। তারা নতুন নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছেন। ডাকসু নির্বাচনে কী ঘটেছে সেটা একনজর দেখা দরকার কি? যদিও সারা দেশের মানুষ এসব খবর অনেক আগেই পেয়ে গেছেন। রোকেয়া হলের বুথ থেকে তিনটি ব্যালট বাক্স ‘গায়েব’ হয়ে যায়। সেই ব্যালট বাক্স গায়েবি মাজেজায় পাওয়া যায় হলের একটি তালাবদ্ধ রুমের ভেতরে। বাক্সগুলোতে সিল মারা ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে। এতে তিন ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। উদ্ধারকৃত বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পেপারের সবই ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীদের নামের পাশে সিল মারা ছিল। হলের রিডিংরুমের (পাঠকক্ষ) দরজার ছিটকিনি ভেতর থেকে আটকে দিয়ে এসব ব্যালট পেপারে সিল মারার কাজ চলছিল।
অন্য দিকে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা ভোটগ্রহণ শুরুর আগে প্রকাশ্যে সবার সামনে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানোর দাবি করলেও হল প্রভোস্ট শবনম জাহান তা দেখাতে বারবার অস্বীকার করেন। অস্বীকার না করে তো কোনো উপায় ছিল না প্রভোস্টের। চোরেরও একটা সামাজিক মানসম্মানের ব্যাপার আছে না? ছেলেদের হলগুলোতে ছাত্রলীগের কর্মীরা জোটবেঁধে গেটে গেটে এমনভাবে অবস্থান নেয় যে, ভয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করার সাহস পাননি। এখানে নির্বাচনের দিনদুপুরে একটি অনলাইন সংবাদপত্রের ডাকসু নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি সংবাদ শিরোনাম তুলে দিচ্ছি। একনজরে নির্বাচনের চরিত্র বুঝে নিতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে হয়,
ি ছাত্রলীগ ছাড়া বাকিদের ভোট বর্জন
ি ভিপি প্রার্থী নূরের ওপর ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের হামলা
ি রোকেয়া হলে বাক্সে সিল না মারা ব্যালট, ভোটগ্রহণ স্থগিত
ি সুফিয়া কামাল হলের স্বতন্ত্র প্যানেলের নির্বাচন বর্জন
ি কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ পরিবর্তন, ভোট শুরু
ি কুয়েত-মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট, ভোট স্থগিত
ি ভোটের লাইন এগোয় না কেন?
ি বিরোধী ছাত্র সংগঠন জিতেছে সব সময়
ি কারচুপি-অনিয়মে শুরু, সবার বর্জনে শেষ।
সেলিমের মন্তব্য থেকে মনে হতে পারে, আমাদের বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা আইয়ুব খানের চেয়েও শক্তিমান এবং তার চেয়েও অগণতান্ত্রিক। বাস্তবেও কি সেটাই দেখা যাচ্ছে? আইয়ুব খান যেটা পারেননি বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। কোটার আন্দোলন ঝেঁটিয়ে সাফ করেছেন। মুছে দিয়েছেন টিনএজ স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনও। আর দেশের রাজনীতির যে লেজেগোবরে অবস্থা, তার কোনো অবয়ব এমনকি রাজনীতিকেরাই বোধহয় ঠাওর করতে পারছেন না! এমনি বাস্তবতায় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বললেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুবই উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ করেই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে দেখে খুশি হয়েছেন তিনি। ধন্যবাদও জানিয়েছেন তাদের।
আমরা ভিসিকে দোষ দিই না। আইয়ুব খানের চেয়ে শক্তিমান রাজশক্তির সামনে যেখানে দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সর্বস্তরের মানুষ নতজানু ও জোড়হস্ত, সেখানে দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ভিসির আর কি করার আছে? সদ্য লোকান্তরিত কবি আল মাহমুদ সেই আশির দশকে একটি কবিতায় যে বলেছিলেন, “হে পরোয়ারদিগার জানতে সাধ জাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি ডাকাতদের গ্রাম?”
বলেছিলেন, “প্রভু ডাকাত, ছিনতাইকারী, পণ্ডিত ও বেশ্যাদের হাত থেকে তুমি কি ইলমকে রক্ষা করবে না?” কবির সেই বাণী আজ যেন মূর্তিমান সত্যের রূপ ধরে দেখা দিলো বাস্তবের রঙ্গমঞ্চে ভোট ডাকাতি ও ছিনতাই নাটকের আনুষ্ঠানিক মঞ্চায়নে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাবিতে শুরু হয়েছে ধর্মঘট। এটা হয়তো চলবে কয়েক দিন। তারপর বেশি বাড়াবাড়ি দেখলে বলা যায় না, আবারো কোনো হেলমেট বাহিনীর আবির্ভাব হতে পারে। হয়তো এভাবেই ঘটবে সব উত্তাপে পানি ঢালার কাজটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে সব আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল সেটা আজ আর স্মরণ করার কোনো প্রয়োজন আছে কি? লক্ষণ দেখলে তো মনে হয়, জাতির সব সঙ্কটে রুখে দাঁড়ানোর গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের অধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড়, রাগী, সত্যনিষ্ঠ ও সাহসী শিক্ষার্থীরা এখন কেবল মেরুদণ্ডহীন পরগাছায় পরিণত হয়েছে। অতীতের সেই গৌরব স্মরণ করার আজ আর কোনো প্রয়োজন নেই।

ভাগ