টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড করতে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ

0

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা॥ টিসিবি পণ্য কেনার ফ্যামিলি কার্ড করতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় উপকারভোগীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ৩ নম্বর কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের সহযোগী মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্ত মজিবর রহমানের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার আরামডাঙ্গা গ্রামে। আরামডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‌‘টিসিবির পণ্য কেনার কার্ডের জন্য বিল্লাল মেম্বারের কাছে গেলে কার্ডপ্রতি ১০০ টাকা দাবি করেন তার সহযোগী মজিবর। টাকা দেওয়ার পর আমার ছবি নেন। পরে জানতে পারলাম টিসিবির কার্ড করতে কোনও টাকা লাগে না।’ একই গ্রামের দিনমজুর মহসীন আলী বলেন, ‘কার্ড করলে কম দামে টিসিবির মালামাল পাওয়া যাবে বলেছেন মজিবর। কার্ড করতে আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেন তিনি। মেম্বারের সহযোগী হওয়ায় আমিসহ গ্রামের অনেকে কার্ড পেতে তাকে টাকা দিয়েছি।’ কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি বিল্লাল মেম্বারের সঙ্গে থাকি। আমি গরিব মানুষ। দিনমজুরির কাজ করি। ভুক্তভোগীদের কার্ড করে দিতে গিয়ে আমাকে কাজে অনুপস্থিত থাকতে হয়। এজন্য তাদের কাছে থেকে ১০০ টাকা করে নিয়েছি। তবে আমি তাদের টাকা ফেরত দেবো।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য মোট এক হাজার ৩৭৬টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ২ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনকে ২০টি কার্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু কার্ড বিতরণের জন্য তার অনুসারী মজিবর রহমানকে দায়িত্ব দেন বিল্লাল হোসেন। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ডেকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’ কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, ‘কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে এক হাজার ৩৭৬ জন উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য কার্ড তৈরিতে অর্থ আদায়ের কোনও সুযোগ নেই। মজিবর রহমানকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি।’

Lab Scan