টিউশন ফি: অভিভাবক, প্রতিষ্ঠানকে মানবিক হতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপরে পাশাপাশি অভিভাবকদেরও মানবিক আচরণ করার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সঙ্কটময় এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বেতনে যতটা সম্ভব ছাড় দিতে স্কুল-কলেজ কর্তৃপকেও অনুরোধ করেছেন তিনি। শনিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় দীপু মনি বলেন, “বড় একটা সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া নিয়ে। ফি না পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগগুলো তাদের শিকদের কি করে বেতন দেবে? আর শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের উপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ টিউশনি করাতেন, এখন তো সব বন্ধ। “সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজেদের কিছুটা হলেও আগামী ক’মাস চলার মতো, কোনোভাবে চলার মতো সামর্থ্য আছে তাদেরকে অনুরোধ করব ফি’কে কিস্তিতে হোক বা কিছুদিন বাদ দিয়ে পরে নেওয়া হোক, সেটি করতে পারেন ভালো। না হলেও দেখেন কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সেটা চেষ্টা করবেন।”
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ না কমলে শিা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কাসগুলো সংসদ টিভির মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে ভার্চুয়াল কাসের ব্যবস্থা করেছে। তবে আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না। মহামারীর মধ্যে নানা উপায়ে শিার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধে তাগিদ দিচ্ছে শিা প্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকার মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের টিউশন ফি আদায়ের বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। এছাড়া মহামারীর মধ্যে বেতন না দেয়ায় প্লে পেন নামের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কয়েকজন শিার্থীকে অনলাইন কাস থেকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এডুকেশন রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘করোনায় শিার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তারা অন্যান্য ঋণের জন্য চেষ্টা করতে পারেন, আমরাও সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারি। “কিন্তু ফি’র ব্যাপারেৃ এই সময়ে স্কুল বন্ধ আছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে সে কারণেও কিছু খরচ আবার কম। সেই খরচটুকু বাদ দিয়ে, বাকী যে খরচ, শিকদের বেতন, অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেকে পুরো বেতন হয়ত এই সময় পাচ্ছেন না, সারা বিশ্বব্যাপী চিত্রটা একই, বাংলাদেশ শুধু একমাত্র দেশ নয়। কাজেই উভয় প থেকেই আসলে কিছু ছাড় দিতে হবে। “অভিভাবকদেরও বলব- আপনাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে, কারণ কিছু না কিছু বেতন তো দিতে হবে। আপনার সন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে মানে তো সেই বেতন বন্ধ করে দেওয়া যায় না। যেমন আপনি হয়ত কাজে যেতে পারছেন না, কাজ বন্ধ আছে, কিন্তু আপনি কি তার জন্যে বেতন চাইবেন না? সরকারি হলে তো পুরো বেতনই পাচ্ছেন, সরকারি না হলে হয়ত বেতন কম দিচ্ছে, এখানেও আপনার সন্তানের ফি যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে দেওয়া উচিত।”
যেসব অভিভাবক এই সঙ্কটে আর্থিক সমস্যায় পড়ে সন্তানের শিা প্রতিষ্ঠানের বেতন দিতে পারছেন না, তাদেরকে শিা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন শিামন্ত্রী। “আর যদি আপনার সামর্থ্য না থাকে সেত্রে শিা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও যদি কিছুটা ছাড় দিতে পারে, কিছুটা কিস্তিতে নিতে পারে, যতদূর সম্ভব উভয় পকেই আসলে মানবিক আচরণ করতে হবে। “এটি এমন একটি সময় যখন আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা ভাবব, তেমনি আমাদের কিন্তু টিকে থাকবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমার যদি শিা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এরপর আপনার সন্তানটিকে আপনি কোথায় ভর্তি করাবেন? সেটি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের দুশ্চিন্তা নিশ্চয়ই।” শিা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, “নিজেদেরও চলতে হবে। এর মধ্যে যতটা সম্ভব আমাদের উভয় পকে ছাড় দিয়ে এবং মানবিক আচরণ করে এই দুর্যোগের সময়টা আমাদের পার করতে হবে।”

ভাগ