টানা তিন নিলামে নিম্নমুখী দুগ্ধপণ্যের দাম

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥পরপর তিনটি আন্তর্জাতিক নিলামে কমেছে দুগ্ধপণ্যের দাম। এপিলের শেষ ও মে মাসের দুটি নিলামেই মন্দা ভাব দেখেছে পণ্যটি। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) মূল্যসূচক পর্যালোচনা করে দরপতনের এ চিত্র দেখা গেছে। জিডিটির সর্বশেষ বৈশ্বিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলের শেষ নিলামে পণ্যটির দাম দশমিক ১ ও মে মাসের প্রথম নিলামে দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
প্রতি মাসে দুবার বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের বাজার নিয়ে সবচেয়ে বড় এ নিলাম বসে। নিউজিল্যান্ডের ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান এ নিলামে অংশ নেয়। ১৮ মে বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের বাণিজ্য বা জিডিটির সর্বশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। মাসের শেষ নিলামে ২৫ হাজার ২০৫ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার ১৪০ টন। মাসের প্রথম নিলামে ২৩ হাজার ৬৩০ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। সর্বশেষ নিলামে সরবরাহের পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার ৫৭৫ টন। মাসের প্রথম নিলামে বিক্রি হয়েছিল ২০ হাজার ২০ টন দুগ্ধপণ্য। শেষ নিলামে বিক্রি বেড়েছে ১ হাজার ১২০ টন। সরবরাহ ও বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি এলেও দুগ্ধপণ্যের দাম ছিল নিম্নমুখী।
সর্বশেষ নিলামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ছিল ৪ হাজার ১৫০ ডলার। গত নিলামের তুলনায় গড় দাম ১২ ডলার কমেছে। এবারের নিলামে ১৬৯ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৯ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।
এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের বাজারে গত কয়েক মাসে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের চাহিদা বেশি ছিল। ফলে ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বগামী ছিল পণ্যটির দাম। সর্বশেষ নিলামে অন্যান্য দুগ্ধপণ্যের তুলনায় এটির বিক্রি ছিল বেশি। তবে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম আগের নিলামগুলোতে বাড়তি থাকলেও এবার দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১২৩ ডলার পৌঁছেছে। যদিও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতবারের মতো এবারো নিলামে সুইট হুই মিল্ক পাউডার সরবরাহ করা হয়নি।
নিলামে অন্যান্য দুগ্ধপণ্যের মধ্যে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম অপরিবর্তিত ছিল। পণ্যটির দাম উঠেছে ৫ হাজার ৭৩০ ডলার। এছাড়া মাখনের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪ হাজার ২২৯ ডলারে নেমে গেছে। এদিকে চেডার পনিরের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ল্যাকটোজের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫১ ডলারে পৌঁছেছে। গত নিলামে বাটার মিল্ক পাউডারের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেলেও এবার তা নিলামে প্রস্তাব করা হয়নি।
এনজেডএক্সের দুগ্ধজাত পণ্য বিশ্লেষক স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, জিডিটিতে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক গতবারের দরপতনের পর এবারো কিছুটা কমেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই ৪ হাজার ডলারেরও বেশি দামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্য কিনছেন। দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্যবারের মতো এবারো ননিযুক্ত দুগ্ধপণ্যের চাহিদা অপ্রতিরোধ্য ছিল।

Lab Scan