টাকার লোভে সততা হারানো মেধাবী এক যুবকের কথা

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ মেধাবী যুবক শাহরিয়ার আজম ওরফে আকাশ। মেধাকে কাজে লাগিয়ে তিনি অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া সময় থেকেই তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বৈধ পথে অর্থ উপার্জন করতেন। কিন্তু বেশি টাকার লোভে পরে তিনি হারিয়েছেন তার সততা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে গুরুতর অসুস্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও শিশুর ছবি পোস্ট দিয়ে সাহায্যের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জালে তাকে ধরা পড়তে হয়েছে। তবে ধরা পড়ার পরও তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সচল ছিলো। টাকাও জমা পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক।
পিবিআই যশোরে এসআই ডিএম নূর জামাল জানান, আকাশ সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। যখন অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো সেই সময় থেকে তিনি তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বৈধ পথে অর্থ উপার্জন শুরু করেন। রোজগারও তার ভালো হচ্ছিলো। কিন্তু ২০২০ সালের দিকে আকাশ বেশি টাকা উপার্জনের লোভে অসৎ পথের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক সময় তিনি অনলাইন ভিত্তিক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোড নম্বর হ্যাকড করে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। এ ঘটনায় আকাশ একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছিলেন। পরে ওই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে তিনি সেই যাত্রা রক্ষা পান।
এসআই ডিএম নূর জামাল বলেন, তাদের ডিজিটাল সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক মনিটরিং করার সময় দেখতে পান, একই বিকাশ ও নগদ নম্বর (০১৮৭৩-৪৩২৯২৬) সংযুক্ত করে ফেস বুকে ভিন্ন ভিন্ন আইডি থেকে গুরুতর অসুস্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও শিশুর ছবি পোস্ট দিয়ে সাহায্যের জন্য টাকা পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় তারা মনিটরিং করে বুঝতে পারেন ফেস বুকের ওই আইডিগুলি ভুয়া। পরে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া আইডি পরিচালানাকারী আকাশকে শনাক্ত করা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সদর উপজেলার আলমনগর গ্রামে ফুফুবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এরপর হামিদপুর গ্রামে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আকাশের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আকাশের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে বিচারক তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
তিনি বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আকাশকে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া আইডিতে দেয়া বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ তাদের কাছে স্বীকার করেন যে, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও শিশুর ছবি ফেস বুকের ভুয়া আইডিতে পোস্ট দিয়ে অবৈধ পথে সাড়ে ১১ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। তার দেয়া বিকাশ অ্যাকাউন্টে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ও নগদ অ্যাকাউন্টে ২ লাখ টাকা সাহায্য পাঠিয়েছেন বিভিন্ন স্থান থেকে হৃদয়বান ব্যক্তিরা। এই টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিয়ে আকাশ তার ট্রাকচালক পিতার দেনা পরিশোধ করেছেন। তাকে একটি মোটরবাইকও কিনে দিয়েছেন। আর মাকে দিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। আকাশের একটি ইয়ামাহা কোম্পানির আর-১৫ মোটরসাইকেল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ওই মোটরসাইকেলটি কিনেছেন আকাশ।
পিবিআই সূত্র জানায়, আকাশ যখন তাদের হাতে আটক হন তখনও সচল ছিলো তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট। আটকের সময় দুটি অ্যাকাউন্টে জমা ছিলো প্রায় ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু সচল থাকার কারণে আটকের পর দুটি অ্যাকাউন্টে আরও ৬০ হাজার টাকা সাহায্য আসে। বিষয়টি জানতে পেরে আকাশের অ্যাকাউন্ট দুটি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ডিএম নূর জামাল বলেন, রিমান্ড শেষ হওয়ায় রোববার আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

Lab Scan