ঝুলে গেলো যশোর-খুলনা-মোংলা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঝুলে গেলো যশোর-খুলনা-মোংলা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। ২০২৪ সালের শুরুর দিন থেকে ট্রেনটি চলাচলের সিদ্ধান্ত হলেও হঠাৎ সেটি স্থগিত করা হয়েছে। কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যশোর থেকে ফুলতলা হয়ে প্রতিদিন দুইবার মোংলায় যাতায়াত করবে যাত্রীবাহী ট্রেন। নির্বাচনের বছরে সরকারের পক্ষ থেকে খুব জোরেসোরে প্রচার করা হচ্ছিলো ২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে। তবে শেষমেষ তা হয়নি। তবে কী কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
যদিও খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে খুলনা-মোংলা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ বুঝে না দেওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কবে নাগাদ এটি চালু হবে সেটিও বলতে পারেননি প্রকল্প পরিচালক আরিফুজ্জামান।
এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, যশোর-খুলনা- মোংলা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন আপাতত চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই রুটের ফুলতলা অংশের পুরোপুরি কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে এখনো কাজ চলছে। এসব কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে।
যশোর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই রেলপথ নিয়ে এ অঞ্চলের যাত্রীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ রয়েছে। সোমবারও বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে ট্রেনের খবর জানতে চাওয়া হয়। তবে সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রেলওয়ের যশোর স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে এই রুটের ট্রেন চলাচল শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে শতভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি এখনো। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সহজ করতে ২০১০ সালে যশোর-খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে এটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে রেলপথ, রেলসেতুসহ মূল রেল লিংকিংয়ের কাজ শেষ হয় চলতি বছরের অক্টোবরে। ৯১ কিলোমিটার রেলপথের পাশাপাশি রূপসা নদীর ওপর ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলসেতু, ১১টি প্ল্যাটফর্ম, ১০৭টি কালভার্ট, ৩১টি ছোট ব্রিজ ও ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ফুলতলাসহ আরও কিছু অংশে এখনো টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিংয়ের কিছু কাজ শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

 

Lab Scan