ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহুলের সংবাদ সম্মেলন, যারা মার খাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিচ্ছে পুলিশ, ওসির বদলি দাবি

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহ-২ আসনে নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল। গতকাল শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ পৌরসভা সংলগ্ন ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া আইসিটি অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ, জাহেদী ফাউন্ডেশনের বন্দে আলী বোরাক, আবু শাহরিয়ার জাহেদী পিপুল ও তবিবুর রহমান লাবুসহ নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বলেন, নির্বাচন ও রাজনীতি সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করা সুযোগ সৃষ্টি করে। সে কারণে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখলাম ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডুর বিভিন্ন গ্রামে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে। তাদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ভিকটিম পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিচ্ছে। প্রতিটি হামলা সুপরিকল্পিত বলে মহুল অভিযোগ করেন।
তিনি ঝিনাইদহ সদর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ওসি যদি এখানে থাকে তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে না। সুরাট ইউনিয়নের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে মহুল বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য মেরাদিম মোস্তাকিম মুনির ওসি শাহিন উদ্দীনের সঙ্গেই মারামারি মিটিয়ে শহরে ফিরে আসেন। অথচ তাকেই আসামি করে মামলা করা হলো। সেই মামলা কি ভাবে ওসি রেকর্ড করলো ?
ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করে মহুল বলেন, একজন মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়। সুরাট ইউনিয়নে ঘর থেকে ধরে এনে কোপানো হচ্ছে। এ ভাবে ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রায় ৫০ জন ঈগল সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০/১৫ জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ঢাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭ জন। অথচ মার খেয়েও নৌকার পক্ষ থেকে তাদের নামেই মামলা করা হচ্ছে। সেই মামলা আবার পুলিশ নিচ্ছেও। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করছি ? দেশে কি কোনো আইন কানুন নেই ?
সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার শুড়োপাড়া গ্রামের মকছেদ আলীর স্ত্রী ঈগল প্রতীকের সমর্থক সামিনা বেগম, গান্নার আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দীন, বাজিতপুর গ্রামের খয়বর শেখের ছেলে নান্নু শেখ, আব্বাস আলী, কলমনখালী গ্রামের আব্দুল মান্নান বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর হোসেন, রাজা বিশ^াস ও ঘোড়ামারা গ্রামের শুকুর আলীসহ বিভিন্ন সময় নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপস্থিত হন।

 

Lab Scan