ঝিনাইদহে বাড়ছে তৃতীয় লিঙ্গের জনপ্রতিনিধি

0

ষ্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ॥ নজরুল ইসলাম ঋতু, শম্পা খাতুন পপি ও পিংকি খাতুননজরুল ইসলাম ঋতু, শম্পা খাতুন পপি ও পিংকি খাতুন ঝিনাইদহে জনপ্রতিনিধিদের কাতারে তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ ও শৈলকুপায় হিজড়া সম্প্রদায়ের দুজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দু’বছর আগেও কোটচাঁদপুর উপজেলায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের একজন। এ নিয়ে ঝিনাইদহে জনপ্রতিনিধির কাতারে শরিক হলেন তিন জন হিজড়া
তারা হলেন—কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নজরুল ইসলাম ঋতু, শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে শম্পা খাতুন পপি ও কোটচাঁদপুর উপজেলার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পিংকি খাতুন।
ফলাফলে দেখা গেছে এরা ভোটের সংখ্যায়ও রেকর্ড গড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কেউ পেয়েছেন দ্বিগুণেরও বেশি ভোট।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানাকে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের নজরুল ইসলাম ঋতু পান ৯৫৫৭ ভোট।
উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের সন্তান ঋতু ঢাকায় থাকলেও প্রায়ই গ্রামে আসতেন। দরিদ্রদের পাশে থেকে তার সহায়তা অব্যাহত ছিল।
সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মোছা. শম্পা খাতুন পপি হেলিকপ্টার প্রতীকে ২১০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী সাবিহা খাতুন ৫১৪ ভোট ও লিলি খাতুন পান ৩২৫ ভোট। শম্পা ওই ইউনিয়নের ফুলহরি গ্রামে থাকেন। তার জন্মস্থান মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে। ২০০৬ সালে পরিবার ছেড়ে ফুলহরি গ্রামে চলে আসেন। ২০১৩ সালে করেন উচ্চ মাধ্যমিক পাস।
দু’বছর আগে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তৃতীয় লিঙ্গের সাদিয়া আক্তার পিংকি বিজয়ী হয়েছিলেন। ১২ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খাতুন পেয়েছিলেন ১২ হাজার ১৩৯ ভোট। পিংকি কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা যুবলীগের আহ্বায়ক।
নির্বাচিত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতু ও মহিলা সদস্য শম্পা খাতুন তাদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এ বিজয় আমাদের নয়, জনগণের। সমাজে আমাদের মতো মানুষ খুবই কম। তারপরও এলাকার জনগণ আমাদের বিজয়ী করেছেন। এখন সবাই আমাদের আপনজন। আমরা বুঝতে পারছি না কীভাবে তাদের ঋণ শোধ করবো। নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো।’
তারা দুজনই নিজেদের বাকি জীবন জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চান বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে সকলের সহযোগিতাও চান তারা।
কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সাগর হোসেন জানান, ‘ঋতু আমাদের এলাকার সন্তান। পেশাগত কারণে ঢাকায় থাকলেও তিনি প্রতিনিয়ত এলাকায় এসে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেন। তার উদারতার কারণেই মানুষ তাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে।’
শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে শম্পা খাতুন পপির আসনে বাদশা নামের এক ভোটার জানান, ‘শম্পা দীর্ঘদিন এখানে থাকার ফলে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি খুব ভদ্র। যে কারণে এবার এলাকার মানুষ তাকে বিজয়ী করেছে।’

Lab Scan