ঝিকরগাছায় ল্যান্ডফোন গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে

0

 

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর)॥ যশোরের ঝিকরগাছায় ল্যান্ডফোন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। বারবার অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও গ্রাহকের ঠিকানায় বিল পেঁছ যাচ্ছে প্রতিমাসে। এসময় এখানে দেড় হাজার গ্রাহক থাকলেও এখন মাত্র ২৪০ জন রয়েছেন।
এদিকে, বর্তমানে টেলিফোন লাইনের গ্রাহকরা যেখানে টেলিফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন অন্য অঞ্চলে সেখানে ঝিকরগাছায় টেলিফোন সংযোগই চালু থাকে না। ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকরা সেই ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর, সরকারি এম. এল মডেল হাইস্কুল, সরকারি শহীদ মশিয়ুর রহমান কলেজ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবসহ গণমাধ্যমকর্মীরা, সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা থেকে গদখালী পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজের কারণে টেলিফোন লাইনের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে এ ব্যাপারে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা সত্বেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
এদিকে মাসের পর মাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও গ্রাহকদের প্রতিমাসের বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বিল্লাহ রুনু জানান, তিনি প্রায় দেড়বছর ধরে ল্যান্ডফোন লাইনের সংযোগ না থাকার পরও নিয়মিত বিল দিয়েছেন। স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখনো নিয়মিত বিল আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত দেড়বছর ধরে ফোন লাইন বন্ধ থাকলেও প্রতিমাসে ১শ ৭৩টাকার বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাবুল, সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
ঝিকরগাছা টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ২০০৬ সালের ৮আগস্ট যশোর উন্নয়নের কারিগর, বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলাম ও যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি মরহুম মুহাদ্দিস আবু সাঈদ উদ্বোধনের মাধ্যমে ডিজিটালে উন্নীত করেছিলেন। ২হাজার ৪’শ ৩২ টি লাইন ডিজিটালে রুপান্তরিত হলেও সেসময় লাউজানী থেকে ঝিকরগাছা পৌরসদর হয়ে গদখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার লাইন সচল ছিল। যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শত ৪০ টিতে।
অসংখ্য গ্রাহকের অভিযোগ, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিম্বা অবহৃত থাকলেও গ্রাহকের কাছে বিল আসছে নিয়মিত। তাও আবার ভুলেভরা ভৌতিক বিল। কোনো কোনো গ্রাহক বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন্স কোম্পানি লিমিডেট (বিটিসিএল) ঝিকরগাছায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ভোগান্তি ও ভৌতিক বিলের বিষয়ে বারবার অবহিত করলেও কোনো কাজে আসেনি।
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। গ্রাহক যখন ল্যান্ড ফোনের সংযোগটি নিয়েছিলেন তখন তার যে নাম্বারটি ছিল তা অদৃশ্যকারণে পরিবর্তন করে নতুন নাম্বার সংযোজন করা হলেও গ্রাহককে অবহিত করার ন্যূনতম প্রয়োজন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে সরকারি-বেসরকারি কোনো গ্রাহকের টেলিফোন নাম্বার এখন অন্য কোন গ্রাহক জানেন না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিসিএল যশোরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান ও ঝিকরগাছার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ মো. রেজাউল ইসলাম জানান, গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

Lab Scan