জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক : চাঙ্গা বাজারে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ছে

গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে ছয় বছরের সর্বোচ্চে উঠেছিল। এর রেশ এখনো রয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের স্পটমূল্য ১ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাজারে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকায় বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক নাগাদ (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম বর্তমানের তুলনায় আরো ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজারে অর্থের জোগান বাড়াতে পারেন। ফরেক্স ক্যাপিটাল মার্কেটসের আওতাধীন ব্রোকারেজ ফরেক্সটাইমের (এফএক্সটিএম) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে সদ্য শুরু হওয়া জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক স্বর্ণে বিনিয়োগের জন্য সেরা সময় বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর মার্কেট ওয়াচ ও কিটকো নিউজ।
এফএক্সটিএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি উভয় ক্ষেত্রেই স্বর্ণের দামে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় শুধু জুনেই মূল্যবান ধাতুটির দাম ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। আর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) পর এটাই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড।
এর মধ্যেই গত মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়। এ সময় স্পট ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি, উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি মাসের শুরু থেকে কিছুটা কমে এলেও এখনো আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলারের আশপাশে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৩৯৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
স্বর্ণের বাজারে বিদ্যমান এ চাঙ্গা ভাব সহসাই কাটছে না বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এফএক্সটিএম। বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। সদ্য শুরু হওয়া জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এ কারণে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আগ্রহ দুটোই বাড়বে।
লন্ডনভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিদ্যমান সুদহার কমিয়ে এনে মুদ্রানীতি আরো শিথিল করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ফেডপ্রধান জেরোম পাওয়েল। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি), রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়াও (আরএবি) মুদ্রানীতি সহজ করে আনতে পারে। মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসায় সম্ভাব্য মন্দার হাত থেকে বাঁচতে এসব ব্যাংকনীতি শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় মুদ্রাবাজারও অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরো জোরালো করেছে চীন-মার্কিন চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ।
এ পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারের জন্য শাপে-বর হয়েছে বলে মনে করছেন এফএক্সটিএমের বিশ্লেষক লুকম্যান ওটুনুগা। তিনি বলেন, দেশে দেশে বিদ্যমান সুদহার বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা তৈরি করতে পারছে না। মুদ্রাবাজার নিয়েও অনিশ্চিত পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এ কারণে তারা বিনিয়োগের জন্য বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেছেন। এ চিন্তা থেকেই বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ক্ষেত্র বিবেচনা করে স্বর্ণের বাজারে ঝুঁকতে শুরু করেছেন তারা। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্বর্ণের বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। ফলে এ সময় স্বর্ণের দাম ও বিনিয়োগের পরিমাণ উভয়ই চাঙ্গা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক সিটিব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বর্তমানের তুলনায় আরো চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। এ সময় মূল্যবান ধাতুটির স্পটমূল্য আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভাগ