জিততে জিততে ‘ক্লান্ত’ অস্ট্রেলিয়া!

একসময় ছেলেদের ক্রিকেটে অপ্রতিরোধ্য ছিলো অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে ১৯৯৯ সাথে ২০০৭ পর্যন্ত টানা তিন বিশ্বকাপ জয়সহ নানান সাফল্য ধরা পড়েছিল তাদের ঝুলিতে। তখন একটানা ২১ ওয়ানডে জয়ের বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছিল রিকি পন্টিংয়ের দল। এখন ঠিকই একই ধাপের মধ্য দিয়েই যেনো চলছে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলও। বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় জয়ের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটে টানা ১৮ ওয়ানডে জয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে মিগ ল্যানিংয়ের দল। অথচ এত এত জয়ের পরও যেন ঠিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ল্যানিং। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলের ধারেকাছের মানেরও কোনো দল না থাকায়, জিততে জিততে হতাশই হয়ে পড়েছে তারা। টানা এত জয়ের ফলে কঠিন পরিস্থিতিতে কী করা উচিৎ, দল তা ভুলে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলের।
বুধবার বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর ব্ল্যাকওয়েল বলেন, ‘আমি আসলে এত সহজ সব জয়ের বদলে দেখতে চাই যে চাপের মুহূর্তে দলটা আসলে কী করে? তাই আমি চাই অন্যান্য দলগুলো আরও অনেক উন্নতি করুক এবং বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের সমকক্ষ হয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাক।’ আর এটি করতে স্ব স্ব ক্রিকেট বোর্ডের পাশাপাশি আইসিসিরও অনেক কিছুই করার আছে বলে মনে করেন ব্ল্যাকওয়েল। তার ভাষ্যে, ‘অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলটা শুধু ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই দলের সঙ্গে অন্যান্য দলের যে দূরত্ব এবং শক্তির পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, তা দূরীকরণে ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসির অনেক কাজ করতে হবে। যাতে করে শক্তির পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল না হয়ে যায়।’ শুধু সাবেক অধিনায়ক ব্ল্যাকওয়েলই নন, বর্তমান অধিনায়ক মিগ ল্যানিংও এত সহজে জয় পেতে পেতে ক্লান্ত। তিনিও চান অন্যান্য দলগুলো যেন আরও উন্নতি করে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ল্যানিং বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফল যাই হোক, এটা নিশ্চিত করতে হবে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানটা যেনো ওপরেই থাকে।’ ল্যানিং আরও বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের দক দিক দিয়েই অস্ট্রেলিয়া আধিপত্য বিস্তার করছে। আমাদের জাতীয় দল, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা বা নারী বিগ ব্যাশের মাধ্যমে ক্রিকেটে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে আইসিসিরও কিছু করা উচিৎ যাতে করে অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো ভালো কিছু করতে পারে।’

ভাগ