জমে থাকা পানি আর আবর্জনায় বেনাপোল বন্দরে ডেঙ্গুর শঙ্কা

0

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর) ॥ সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকহারে বিস্তার করলেও সচেতনতা নেই বেনাপোল পৌরসভা ও স্থলবন্দর এলাকায়। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল,বন্দরের পণ্যাগার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি,আর্বজনা ও আগাছায় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উৎপত্তি ও আক্রান্তের শঙ্কা বাড়ছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন ডেঙ্গু মোকাবিলায় জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনসহ নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জানা যায়, টানা চার বছর করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে সবকিছু যখন স্বাভাবিকের পথে, ঠিক তখন দেশ জুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু আবারও ভাবিয়ে তুলেছে। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বেনাপোল পৌরসভা বা বন্দর এলাকায় এখনও লক্ষ্যণীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করছেন অন্তত ৭ হাজার পাসপোর্টযাত্রী ও দুই হাজারের মত ভারত ও বাংলাদেশি ট্রাক চালক। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজারের মত কর্মকর্তা,কর্মচারী ও পণ্য খালাসের কাজে শ্রমিকেরা সার্বক্ষণিক অবস্থান করে থাকে। নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার বা জলাবদ্ধ নিষ্কাশন না করায় বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, পণ্যাগার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীরা সার্বক্ষণিক ডেঙ্গ রোগের আক্রান্তের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে যশোর জেলায় গতমাসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতগামী পাসপোর্টযাত্রী আবির হোসেন জানান, প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে রাত ৩ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হয়। মশা আক্রমণ করে সারাক্ষণ। এখানে সড়কের ওপর জলাবদ্ধতায় এডিস মশা থেকে যে কোনও সময় ডেঙ্গুরোগ হতে পারে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক চালক জব্বার হোসেন জানান, বন্দরের মধ্যে যেভাবে মাছের পানি ও আবর্জনা জমে সবসময় জলাবদ্ধতা থাকে এতে ডেঙ্গু আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।
বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সোহাগ হোসেন জানান, ডেঙ্গু নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। বন্দর এলাকার জলাবদ্ধতায় ডেঙ্গু আক্রান্তের শঙ্কায় আছি আমরা। দ্রুতপদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।
বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী আনসার কমান্ডার তপন কুমার বিশ্বাস জানান, তাদের ক্যাম্পের সামনে মহাসড়কেই দীর্ঘদিন ধরে আর্বজনার স্তুপ ও জলাবদ্ধতা রয়েছে। বার বার চিঠির মাধ্যমে পৌরসভাকে জানানো হলেও তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে ডেঙ্গু আক্রান্তের ভয় বাড়ছে।
বেনাপোল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বন্দর এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকায় আবর্জনা বা জলাবদ্ধতা হয়। পর্যায়ক্রমে বন্দর এলাকায় জমে থাকা এসব পানি বা আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যন মতে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ জন মারা গেছে। বর্তমানে দেশে সর্বমোট ৯ হাজার ৭৯০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তে মোট ৩৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Lab Scan