জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই

গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পড়েছে বাংলাদেশেও অসময়ে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। একই সাথে মানুষের রোগ প্রতিরোধ মতা কমে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক, তখন বাংলাদেশের মানুষ ভুগছে আবহাওয়াজনিত নানা রোগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ করে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৫২১ জন। ঢাকার একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে এবার ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৩৮৪। মারা গেছে ৬১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবার গত ১ নভেম্বর থেকে ওইদিন সকাল পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ হাজার ৭৬০ জন, ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ছয় হাজার ৫৬০ জন এবং ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য রোগে দুই লাখ ২৭ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগে মৃত্যু ঘটেছে ২২ জনের, ডায়রিয়ায় ৯ জনের ও অন্যান্য শীতজনিত রোগে ৩০ জনের।
আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক তারতম্য ও মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রোগের জটিলতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও রয়েছে বলে মেনে নিচ্ছেন তাঁরা। দেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগের মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসায়ও দেখা দিয়েছে জটিলতা। কিন্তু সেই অনুসারে ব্যবস্থাপনা আরো বেশি প্রয়োজন। তাঁদের মতে, জলবায়ুর প্রভাব, আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ ও মানুষের রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার অভাবের কারণে যেমন মৌসুমি রোগের প্রকোপ বাড়ছে, আবার এসব রোগের জটিলতাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায়ও ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করছেন তাঁরা। জেলা পর্যায়ে সব হাসপাতালে এখনো সব ধরনের চিকিৎসার সুযোগ পর্যাপ্তভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, মানুষ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে রোগ জটিল হয়ে উঠার আগ পর্যন্ত আসে না। অথচ এ ধরনের রোগগুলো প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সব দিক থেকেই মানুষের সুরা মেলে। ভোগান্তিও যেমন কমে, তেমন মৃত্যুহারও কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন আমাদের মৌসুমি রোগের পর্যবেণের ওপর জোর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগের গতিবিধি এবং পূর্বাপর প্রকোপ কম না বেশি তা নিরূপণ করে করণীয় ঠিক করা তাতে সহজ হবে। আবার চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের দেশে সেকেন্ডারি ইনফেকশন বেশি থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকভাবে কাজ করে না। হাঁচি-কাশিতে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকে না। ফলে ভাইরাস-জীবাণু ছড়ানোর সুযোগ থাকে বেশি। আবার আক্রান্ত হলেও বেশির ভাগই চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে দেরি করে আসে। জটিলতা সৃষ্টির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও সমস্যা। সব শহরে পরীক্সা-নিরক্ষিা সুব্যবস্থা এখনও হয়নি। ফলে, রোগ নির্ণয়ে দুর্বলতা থেকে যায়। চিকিৎসাতেও তার প্রভাব পড়ে এবং অনাকাক্সিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে জনসচেতনতা ও রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

ভাগ