জগদীশপুর তুলা ফার্মের পুরাতন গেট বহালের দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার,চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর তুলা গবেষণা ও বীজ বর্ধন খামারের ৩৮ বছরের পুরনো ৩নং গেট বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ গ্রামবাসী। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর অর্ধ সহ¯্রাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন সকাল ১০টায় খামার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে খামার ব্যবস্থাপকের কাছে গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেন এলাকাবাসী। গ্রামবাসীর পক্ষে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানে নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য বরকত আলী, সাবেক ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান হাসান, জিন্নত আলী, সহ-অধ্যাপক আব্দুল মাজিদ, বকুল হোসেন, আশিকুল ইসলাম, রনজু, সিরাজ উদ্দিন প্রমুখ। মানববন্ধনে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের বিপুল সংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন ১৯৮০ সালে উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের জগদীশপুরে এই খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আঞ্চলিক তুলা উন্নয়ন, তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধণ খামার বলে এর খ্যাতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময়ে খামারের চার পাশে তারকাঁটা দিয়ে সীমানা প্রাচীর করার সময়ে তিন দিকে তিনটি গেইট রাখা হয়। সে সময়ে খামার এবং পার্শ্ববতী অপরাপর গ্রামের মানুষের মির্জাপুর গ্রামের সাথে যোগাযোগের জন্য খামারের উত্তর পূর্বকোনে ৩নং গেট নামে একটি গেট রাখা হয়। যা বর্তমানেও বহাল আছে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর খামারটির চতুর্দিকে প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছে, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্রাচীর নির্মাণের সাথে ৩নং গেইটটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে খামারের অপরপাশে অবস্থিত ৩টি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কান্দি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সর্পরাজপুর দাখিল মাদ্রাসা ও জেএমএসকে কলেজে অধ্যয়নরত মির্জাপুর গ্রামের পাঁচশতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণে দেখা দেয় চরম অনিশ্চিয়তা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য আর কোন প্রতিষ্ঠান নেই। একই এলাকায় অবস্থিত সর্পরাজপুর একটি বড় বাজার। এটি মির্জাপুর গ্রামবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটার একমাত্র বাজার। এ কারণে ৩নং গেটটি যেন বহাল রাখা হয় তার দাবি করেন তারা। এর আগেও তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সে সময় খামার ব্যবস্থাপক শেখ আল মানুনের প্রতিশ্রুতিতে তারা শান্ত হয়। এ বিষয়ে খামার ব্যাবস্থাপক শেখ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। ১৭৬০ ফুট সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শেষ হচ্ছে। এই মুহূর্তে মির্জাপুর গ্রামবাসী ৩য় গেটটি খোলা রাখার জন্য দাবি তুলেছেন, এমনকি একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। স্মারকলিপিটি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সদর দফতরে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

ভাগ