ছাগল পালনে ভাগ্য ফিরেছে মোংলার জয়খাঁ গ্রামের অভাবি মানুষের

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ॥ মোংলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ গ্রামের বিধবা নারী রিনা মালাকারের (৩৫) নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে একটি মাত্র ছাগল পেয়ে তার সেই অভাব ঘুঁচে গেছে। একই গ্রামের মাজেদা বেগমও ছাগল পেয়ে তা লালন পালন করে পরিবারের সমস্যার সমাধানসহ ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ পুষিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে ১২০টি পরিবার ছাগল ও ভেড়া পালন করে তাদের সংসারের অভাব অনটন দূর করে যাচ্ছেন। ছাগল-ভেড়া পালন ছাড়াও শুধুমাত্র সবজি চাষ করেও ভাগ্য বদলেছে অনেক পরিবার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ হতদরিদ্র এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য দরিদ্র মানুষের উপকার করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উপকারভোগী পরিবারগুলো।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ ছাগল পালন, কেউ ভেড়া পালন ও কেউ লবণাক্ত জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ভালো ফলন হওয়ায় ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন তারা। শিরিনা বেগম বলেন, চারজনের সংসারে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে ঘরে বসে আছে। ফ্রেন্ডশিপ থেকে বিনামূল্যে একটি ছাগল দেওয়া হয় তাকে। সেই ছাগল থেকে আরও তিনটি বাচ্চা হয়। ছাগলের দুধ বিক্রি ও দুটি ছাগল বিক্রি করে তার সংসারের অভাব কিছুটা দূর হয়েছে।
প্রশান্ত ম-ল বলেন, অভাবের সংসারে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফ্রেন্ডশিপ থেকে একটি ভেড়া দেওয়া হয় তাকে। সেটি থেকে ১৫টি বাচ্চা হয়। মেয়ের লেখাপড়া শেষ করে তাকে বিয়ে দিয়েছি। তন্দ্রা ম-ল বলেন, আমাদের গ্রামের বেড়িবাঁধটি অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ভেঙে যায়। ফলে তাদের এক একর কৃষি জমি নষ্ট হয়। পরে ফ্রেন্ডশিপ থেকে বিনামূল্যে তাদের শীতকালীন সবজির বীজ দেওয়া হয়। সেই বীজ লাগিয়ে নানা রকম শাক সবজির ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। এখন তার স্বামীর একার আয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।
স্থানীয় সোনাইলতলা ইউপি চেয়ারম্যান নারজিনা বেগম বলেন, সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি উপকূলীয় সুবিধাবঞ্চিত এই জনপদের জীবনমান ও পারিবারিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সমমর্যাদাসহ পূর্ণ জীবনমান প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ফ্রেন্ডশিপ ট্রানজিশনাল ফান্ড কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটির সহযোগিতায় এই এলাকার দরিদ্র মানুষেরা ছাগল, ভেড়া পালন ও সবজি চাষের মাধ্যমে তাদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফ্রেন্ডশিপ ট্রানজিশনাল ফান্ডের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুয়েল হাসান জানান, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের সহায়তায় দরিদ্র পরিবারের আয় রোজগার নিয়মিতকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তারা জয়খাঁ গ্রামের ১২০টি দরিদ্র পরিবারকে বিনামূল্যে ছাগল, ভেড়া ও সবজির বীজ বিতরণ করে আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও দুর্যোগ সহনশীল সক্রিয় সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরিকরণ ও জীবিকার মান উন্নয়ন করছেন।
মোংলা উপজেলার উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ফ্রেন্ডশিপ দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে যেসব প্রাণী ও শীতকালীন সবজি দিচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসামূলক কাজ। তারা শুধু এসব দিয়ে যাচ্ছে না, এসবের প্রশিক্ষণও প্রদান করছেন। ফলে এই পরিবারগুলোতে স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

Lab Scan