চৌগাছায় ৮৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে চরম এই দুঃসময়ে দায়দেনা পরিশোধের স্বপ্ন দেখছেন। প্রতিটি শিম ক্ষেত ফুলে ভরে গেছে, ইতোমধ্যে অনেকে শিম বিক্রি শুরু করছেন। ভাল দাম পাওয়ায় লাভের আশায় বিভোর চাষিরা। তবে খরার কারণে শিমক্ষেতে পোকার আক্রমন বেশি। তবে কৃষি অফিস নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চৌগাছার অধিকাংশ এলাকাতে শিমের চাষ হয়েছে। যার পরিমাণ ৮৫ হেক্টর অর্থাৎ ৬৩৮ বিঘা। সমতল ভূমির পাশাপাশি নিচু জমিতে বেড তেরি করে কৃষকরা সিম চাষ করেছেন। গ্রীষ্মের পাশাপাশি শীত মৌসুমের সিমের চাষ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। এই শিম বর্তমানে মাচায় উঠতে শুরু করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিঘার পর বিঘা জমিতে শিম চাষ হয়েছে। প্রতিটি জমিতে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। কৃষকরা শিমক্ষেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কথা হয় হাজরাখানা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে কৃষক তরিকুল ইসলামের সথে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ইফসা-২ (স্থানীয় নাম রুপভান) জাতের শিম চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত ওই কৃষকের প্রায় অর্ধলাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। প্রতিটি গাছে অসংখ্য শিমের ছড়া বের হয়েছে আর ফুলে ফলে ভরে উঠেছে। ইতোমধ্যে ৪০ কেজি শিম ৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, শিমক্ষেতে খরচের যা প্রয়োজন তা প্রায় হয়ে গেছে। এখন শুধু নিয়মিত পরিচর্জা করার দরকার। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে এ বছর তিনি দেড় বিঘা জমি হতে ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। কৃষক তরিকুল ইসলামের মত ওই মাঠে টিপু সুলতান ৪ বিঘা, জয়নাল আবেদিন ১০ কাটা, ইমান বিশ্বাস ১ বিঘা, আব্দুাল আলী ১০ কাটা, শওকত আলী ১ বিঘাসহ অনেক চাষি গ্রীষ্মের শিম চাষ করেছেন। চাষিরা জানান, নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা, পেটভরা, চাঁদপাড়া, নারায়নপুর, বড়খানপুরসহ অধিকাংশ গ্রামের মাঠগুলোর জমি সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা জমিতে যে ফসলই উৎপাদন করেন তা ব্যাপক ফলন হয়। তবে কষ্টের বিষয় হচ্ছে, যখন কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত শুরু হয় তখনই দাম কমে যায়, এতে কৃষক ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হন। এ বছর বৃষ্টি কম। যে কারণে শিমক্ষেতে বেশি পানি সেচ দিতে হয়েছে যা বাড়তি খরচ। এছাড়া খরার কারণে পোকার আক্রমণ তুলনামূলক বেশি। যার কারণে কীটনাশক কিছুটা বেশি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এদিকে চৌগাছার বহু নিচু এলাকাতে বিপুল পরিমানে শিম চাষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সিংহঝুলী, ফুলসারা, পাশাপোল, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কৃষকরা জলাবদ্ধ জমিতে বেড তৈরি করে সেই বেডে চাষ করেছেন শিম। এসব এলাকার চাষিরাও অধিক লাভের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, গ্রীষ্মের সিম চাষে কৃষক বেশ লাভবান হয়, যে কারণে প্রতি বছরই গ্রীষ্মের শিম চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক যাতে কোন সমস্যায় না পড়েন তার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষককে নানাভাবে পরামর্শ প্রাদন করে যাচ্ছেন।

Lab Scan