চৌগাছায় হাটে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার পৌর পশুহাট জমে উঠেছে। ঈদুল আযহা সন্নিকটে তাই পশু পালনকারীরা পশু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পশুহাটের যেদিকে চোখ যায় সে দিকেই পশু আর ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি। তবে দাম নিয়ে অসন্তোষ জানান ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।
সোমবার (১৯ জুন) ছিলো চৌগাছার পৌর পশুহাটের দিন। ভোর হতে দেশের বিভিন্ন জেলা- উপজেলাসহ স্থানীয়রা পশু বিক্রির জন্যে হাটে জড়ো হন। এদিন চৌগাছার সাপ্তাহিক বৃহৎ কাঁচাবাজর, পান ও কাঁঠালের হাট। একই দিনে পশুহাটের দিন হওয়ায় সকাল থেকেই উপজেলা সদরসহ প্রধান সড়কে শুরু হয় যানজট। অনেক ভোগান্তি পেরিয়ে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা হাটে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা ঝিনাইদাহের মহেশপুরের নজরুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের যত পশুহাট আছে তার মধ্যে অন্যতম চৌগাছার পশুহাট। কেননা এই হাটের পরিবেশ অন্য যে কোন হাটের থেকে ভিন্ন। ছায়াঘেরা পরিবেশ, প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান, বিশাল এলাকা। তিনি ৩টি গরু নিয়ে এসেছেন হাটে। তবে কাঙ্খিত দাম না হওয়ায় বিক্রি করতে পারেননি।
চৌগাছার রুস্তমপুর গ্রামের গরু বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক, ঝিকরগাছার গদখালি এলাকার মিজানুর রহমান, চৌগাছার বাদেখানপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তার বলেন, এখনও ঈদের কেনাবেচা সেভাবে শুরু হয়নি। ক্রেতারা যে গরুর দাম দেড় লাখ টাকা সেটি এক লাখ বলছেন। একটি গরু পালনে যে পরিমাণ ব্যয়, দাম সেভাবে হচ্ছেনা। তাই গরু বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
পশু কিনতে আসা যশোর সদরের আক্তারুজ্জামান শেখ ও চৌগাছার ইমাম হোসেন সাগর জানান, বিক্রেতারা গরু-ছাগলের দাম বেশি চাচ্ছেন। যে গরুর দাম এক লাখ টাকা সেটি দেড় লাখ বা এক লাখ ষাট হাজার টাকা দাম চেয়ে বসে থাকছেন। দাম বেশি হওয়ায় গরু কেনা আপাতত বন্ধ করেছি। ঈদ সামনে রেখে পশু কেনা হবে বলে এই ক্রেতারা জানান।
কোরবানি উপলক্ষে পশু কিনতে চৌগাছার হাটে এসেছেন বরিশাল জেলার ব্যাপারী শামীম রেজা, নোয়াখালী জেলার মনিরুল ইসলাম মনির, কুমিল্লা সদরের নয়ন হোসেন, ঢাকার হাজী আপেল উদ্দিন ও চট্টগ্রামের আবু খায়ের। তারা বলেন, কোরবানি সামনে রেখে আমরা প্রতি বছর এ অঞ্চলের হাটগুলো হতে গরু কিনে নিয়ে যাই।
পশুহাটে দায়িত্বরত পৌরসভার প্যানেল মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, ঈদের আরও কিছুদিন বাকি আছে। তাই ক্রেতা -বিক্রেতা উভয় পশু কেনাবেচায় বিলম্ব করছেন। হাটে আগত সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে পশুহাট জমে উঠেছে। সকলেই হাটে এসে খুশি।
পৌরমেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, চৌগাছা পৌর পশুহাট এ অঞ্চল তো বটেই সারাদেশে এর সুনাম রয়েছে। আইনি জটিলতায় দিন নিয়ে সমস্যা আছে। সে কারণে কাঁচা বাজারের দিনে হাট বসাতে হয়েছে। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ইজারাও দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ হাটে খাস আদায় করেন। এ বছর পশুহাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ক্রেতা- বিক্রেতার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আমরা ক্রেতা- বিক্রেতা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই হাট পরিচালনা করছি।

 

 

 

 

Lab Scan