চৌগাছায় সবজির দাম পাচ্ছে না কৃষক

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় সবজির দাম নিয়ে বিপাকে কৃষক ও ব্যাপারীরা। সবজি ভান্ডারখ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ সবজি মোকাম চৌগাছা বাজাব। এ সবজির হাট থেকে কাঁচা সবজি যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড়-বড়সব শহরে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে সবজি বাজারে। ফলে সবজি উৎপাদন ভালো হলেও দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা।
শুক্রবার চৌগাছায় সাপ্তাহিক সবজির হাট ছিল। এ হাটে ছিল প্রচুর সবজি। গত হাটের চেয়ে আজ সবজির আমদানি বেশি ছিল, তবে দাম ছিল কম। কৃষকরা বলেন, সব সবজিই কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে ব্যাপাক লোকসান হচ্ছে কৃষকের। চৌগাছা বাজারের আড়ৎ ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, বুধবার হাটে বিক্রি হয়েছে পটল প্রতি কেজি ২৫ থেকে ২৮ টাকা, উচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ১৫ টাকা, ঢেড়স ২২ টাকা, সিম ১৫ টাকা, লাউ প্রতিটি ১৫ টাকা ও কলা ১৬ টাকা কেজি। কিন্তু আজ শুক্রবার প্রতিটা সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কম। উপজেলার বাঘারদাড়ী গ্রামের পটল চাষী ইনতাজ আলী বলেন, এ বছর ১৭ কাঠা জমিতে পটল লাগাইছি, বুধবার হাটে পটল বিক্রি করেছি ২৮ টাকা কেজি, আজ বিক্রি হলো ২০ টাকা কেজি। অন্য বছর এ সময় পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দাম থাকে। এর কম হলে চাষের আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের বেগুন চাষী আব্দুল কাদের বলেন, গত হাটে ২০ টাকা কেজি বেগুন বিক্রি করে ছিলাম আজ ১৫ টাকা। গত বছর এ সময়ে বেগুনের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
বড় খানপুর গ্রামের ভেন্ডিচাষী দাউদ হোসেন বলেন, গত হাটের চাইতে কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হলো ভেন্ডি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মত বর্গা চাষীরা ক্ষতি মুখে পড়বে। সবজি কিনতে আসা ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের ব্যাপারী আবুল হোসেন বলেন, গত হাটে সবজি কিনে তাতে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। কারনার বইরের ব্যাপারীরা মাল কিতনে অনিহা প্রকাশ করছেন। খুচরা বাজারে ক্রেতা সঙ্কট দেখিয়ে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবজির দাম। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। স্থানীয় ব্যাপারী আব্দুস ছালাম বলেন, আগে ঢাকায় যেতে ট্রাকভাড়া ছিল ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ভাড়া ১৯ হাজার টাকা। তারপরেও ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে সবজির দাম পড়ে গেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ হয়েছে। সবজির ফলনও ভাল। করোনার প্রাদুর্ভাবে বাজারে ক্রেতা সঙ্কট তাই দাম পাচ্ছেন না কৃষক। উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন, দেশে সবজি চাহিদা থাকলেও পরিবেশ প্রতিকুলে তাই দাম কম। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব কমে গেলে সবজির চাহিদার পাশাপাশি দাম বাড়বে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বলেন, যশোরে সারাবছর সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এ জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে ৮ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি সবজি উৎপাদন হয়। এরমধ্যে চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বেগুন, পটল, লাউ, সিমসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হয়েছে।

ভাগ