চৌগাছায় যুবলীগ নেতা ইকবালের নেতৃত্বে খনন করা ভৈরব নদ দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সদ্য খনন করা ভৈরব নদ দখল করে মাছ চাষে মেতে উঠেছে মতাসীন দলের লোকজন। সম্প্রতি এক আওয়ামী লীগ নেতার দখল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জের কাটতে না কাটতেই এবার যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে নদ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী নদ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর থেকে যশোর সদর উপজেলার আফরা পর্যন্ত প্রায় ৯২ কিলোমিটার ভৈরব নদ খনন করা হবে। ইতোমধ্যে চৌগাছা অংশে নদের ১২ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদের বেশ কিছু অংশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা দখল করে সেখানে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কলেজের শিক্ষক অহিদুল ইসলাম ওরফে ইকবাল নদ দখলের মূল নায়ক। তাকে সহযোগিতা করছেন তারই আপন আরও চার ভাই। তিনি নদের চৌগাছা তাহেরপুর বুড়ি বটতলা কালভার্ট থেকে লক্ষ্মীপাশা কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪শ মিটার এলাকা দখলে নিয়ে তেলাপিয়া মাছসহ নানা কার্প জাতীয় মাছ চাষ করছেন।
সূত্র জানায়, ইউনিয়নের আরাজি সুলতানপুুুর গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা অহিদুল ইসলাম ইকবাল, তার ভাই শহিদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, জালাল উদ্দিন এবং মহিরুল ইসলামের যোগসাজশে নদ দখল নিয়ে চলছে মাছ চাষ। এ কাজে কেউ ঝামেলা না করতে পারে এজন্য অংশীদারিত্বের টোপ দিয়ে গ্রামবাসীকে মাছ চাষে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের কাছ থেকে শেয়ার হিসেবে টাকাও গ্রহণ করেছেন ওই নেতা। তাহেরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, নদে মাছ চাষ করছেন ইকবাল ও তার ভাইয়েরা। গ্রামের কিছু সাধারণ মানুষকে তারা সাথে নিয়েছেন। নদের যে অংশে তারা মাছ চাষ করছেন সেখানে কাউকে নামতে দেওয়া হয় না। ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, নদ খননের পর পরই গ্রামের ইকবাল নদে মাছ ছাড়েন। এ ঘটনায় সে সময়ে গ্রামবাসীর সাথে তার কিছুটা বিরোধও বাধে। পরবর্তীতে ইকবাল গ্রামের লোকজনকে মাছ চাষে শেয়ার দেয়ার কথা বলে তার অনুকূলে নিয়েছে। ভৈরব নদ যাতে উন্মুক্ত থাকে আমি সেটিই প্রত্যাশা করি।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, আমি শুনেছি ইকবাল ও শহিদুলের নেতৃত্বে আরাজি সুলতানপুুুর গ্রামের মানুষ খনন করা ভৈরব নদে মাছ চাষ করছেন। ওহিদুল ইসলাম ইকবালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদ দখল বা মাছ চাষ কিছুই হয়নি। ইউনিয়নে আওয়ামী লীগে দুটি গ্রুপ আছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন আমাকে হেয় করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইকবালের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তো মাছ চাষ করছি না, এমনকি আমার জানা মতে নদে অন্য কেউ মাছ চাষ করছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, নদের জায়গা দখল করে মাছচাষের কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিনে এমন কিছু পেলে অবশ্যই দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নদ দখল করে মাছ চাষের বিষয়টি আমি শুনেছি। কাউকে নদ দখল করে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। কালভার্টের কিছু অংশের খনন কাজ বন্ধ আছে, ওই অংশ দ্রুতই খনন করা হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর হাকিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহরাব হোসেন টাইগার ও সাবেক সদস্য আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে নদ দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই জের কাটতে না কাটতেই এবার যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে নদ দখলের খবরে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় উঠেছে গোটা উপজেলা জুড়ে।

ভাগ