চৌগাছায় মিষ্টি কুমড়ো চাষে লাভবান কৃষক সিরাজুল

0

 

এমএ রহিম, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ো চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক সিরাজুল ইসলাম। ভালো দাম পেয়ে বেজায় খুশি তিনি। ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা আবাদের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে খরিপ-২ হাইব্রিড সুইটি জাতের মিষ্টি কুমড়ো চাষ করেন তিনি।
কৃষক সিরাজুল উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় মূলত রাজমিস্ত্রি। অল্প আয়ে সংসারের হাল যেন আর টানা যাচ্ছিল না। তাই বাড়তি আয় করতেই ধরতে রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিতে মনোযোগ দেন। তিনি এলাকায় ফলের চাষ দেখে ফল চাষে মনোযোগ দেন। তিনি গত বছর এক বিঘা জমিতে পেয়ারা আবাদের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়োর আবাদ করেন। এ আবাদে তিনি লাভবান হন। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা আবাদের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে খরিপ-২ হাইব্রিড সুইটি জাতের মিষ্টি কুমড়ো চাষ করেন।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা আবাদের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে খরিপ-২ হাইব্রিড সুইটি জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে বীজ ৫ হাজার টাকা, বীজতলা (খোলা) প্রস্তুত বাবদ ১ হাজার ২শ টাকা, লাগানো বাবদ ১ হাজার ৬শ টাকা, সার ওষুধ ও পরিচর্যা বাবদ ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ৫ বিঘা জমি থেকে ৪ বারে মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি করেছি প্রায় ৬০ হাজার টাকার। কম খরচে বেশি লাভ। এ মৌসুমে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ জমিতেই আবাদ রয়েছে পেয়ারা। পেয়ারার চারার বয়স ৪ মাস। গতানুগতিক চাষের বিকল্প হিসেবে তিনি পেয়ারা বাগানে মিষ্টি কুমড়ো চাষের চিন্তা করেন বলে জানান।
মিষ্টি কুমড়া ক্ষেতে বসে সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। প্রতিবেশীদের দেখে জমি বর্গা নিয়ে ফল চাষের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। গতানুগতিক ধারা পরিবর্তনের আগ্রহ থেকেই এক ফসলের মধ্যে সাথী ফসলের চাষ শুরু করি। এখন ১৩ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে।

তিনি জানান,পাশের গ্রামের কৃষকদের এমন চাষ দেখে আকৃষ্ট হওয়ার পরে ২০২২ সালের মার্চ মাসে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আলামপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার নিকট থেকে হাইব্রিড চায়না জাতের মিষ্টি কুমড়োর বীজ সংগ্রহ করি। পরে তা পেয়ারা বাগানের জমিতে রোপণ করি। কিছু দিনের মধ্যেই গাছে ফুল-ফল আসতে শুরু করে। মিষ্টি কুমড়োয় ভরে যায় ক্ষেত।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, এ বছর উপজেলায় সুপ্রিমা ও খরিপ-২ হাইব্রিড সুইটি জাতের মিষ্টি কুমড়ো চাষ হয়েছে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে। এ ধরনের নতুন পদ্ধতিতে চাষ কৃষকদের উৎসাহী করতে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত কৃষি বিভাগ।

 

Lab Scan