চৌগাছায় নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যের কাছে নিম্ন আয়ের মানুষের আত্মসমর্পণ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মাংস, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসির দাম প্রতিদিনই বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এসব পণ্যের দাম বাড়তে বাড়তে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, বাজারদরের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিম্নআয়ের মানুষজন। একদিকে কারোনা ভাইরাসের প্রকোপ অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে সব কিছু লণ্ডভণ্ড। এসব দুর্যোগ সামাল দিয়ে সব শ্রেণিপেশার মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়াতে প্রাণপন চেষ্টা করছেন ঠিক সেই সময় নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে বাজার মনিটরিং করার জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল। উপজেলা কৃষি প্রধান একটি উপজেলা। ধান, পাট, সবজি, ফল-ফলাদি, মাছ, হাঁস,মুরগি এমন কোন কিছু নেই যে এখানে উৎপাদন হয় না। অথচ সেই উপজেলার মানুষ বর্তমানে এ সব পণ্যসামগ্রী কিনতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। গতকাল সোমবার ছিল চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন। দুপুরে চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থিত অস্থায়ী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যাপক উপস্থিতি। হাটে কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অনেকেই তা মানছেন না। বিক্রেতারা বিভিন্ন রকমের সবজি বিক্রি করছেন। কিন্তু সব ধরনের সবজির দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। এক কেজি উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। অনুরুপভাবে কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, সারোকচু ৬০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫ টাকা, ভেন্ডি ৪০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, রশুন ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পোল্লা ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, চিচিংগা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা মাছ বাজারেও। দেশি মাছের সরবরাহ খুবই কম। যা কমবেশি এসেছে তার দাম সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। পুকুর-বিল বা ঘেরে চাষ করা শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া কার্প জাতীয় মাছ ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রুই, কাতলা, মৃগেল ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পুটি, খয়রা মাছ ১ পোয়া বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে ২ শ টাকায়। আর ইলিশ মাছের কেজি ৯০০ টাকা। সবজি আর মাছের বাজার যেখানে এই অবস্থা সেখানে মাংস কিংবা ডিমের বাজার স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। দেশি মুরগি সাড়ে ৪শ টাকা কেজি, সোনালী ২৮০, লেয়ার ৩০০ আর পোল্ট্রি মুরগির কেজি ১৮০ টাকা। এক খাচি (৩০ পিস) ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। এদিকে বাজরে ১ কেজি খাশির মাংস ৭৫০ আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে সাড়ে ৫শ টাকায়। সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম। বাজার করতে আসা দিনমজুর জাবেদ আলী জানান, করোনার কারণে কাজ কমে গেছে, তাই রোজগারও কম। কিন্তু বাজারের যে বেহালদশা তাতে আমাদের মত মানুষের হয়তো বাজার করাই বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমান বাজারদরের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা খুবই খারাপের দিকে চরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজার মনিটরিং করে পণ্য সামগ্রী ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।

ভাগ