চৌগাছায় ট্রাফিক পুলিশ-জনতা উত্তেজনা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় ট্রাফিক পুলিশের সাথে সাধারণ জনতার তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। সোমাবর দুপুরে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কে মহিলা কলেজের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা মাসুমের নেতৃত্বে সোমবার সকাল থেকেই চৌগাছা বাজারের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করার পাশাপাশি মামলা করতে থাকেন। দুপুরের দিকে মহিলা কলেজের সামনে তারা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে থাকেন। এ সময় চৌগাছা বাজারের দিক থেকে আসা পৌর এলাকার এক প্রবাসী সেখানে মোটরসাইকেলে গেলে তার গতিরোধ করে ট্রাফিক পুলিশ। এসময় কাগজপত্র দেখতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন পরে এক মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি, আগামীকাল (আজ) পুনরায় চলে যাবো। একটি জরুরি কাজে বাজারে এসেছি, বাসা থেকে বাজার নিকটে তাই হেলমেট আনা হয়নি। তারপরও ট্রাফিক হেলমেট ব্যবহার না করার অপরাধে একটি মামলা দেয়। এনিয়ে ওই প্রবাসীর সাথে ট্রাফিক পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয় একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্থানীয় জনতা ও পথচারীরাও এসময় ট্রাফিক পুলিশের উপর চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রাফিক পুলিশ চৌগাছা থানাকে খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পথচারী বিল্লাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, শিমুল হাসান, রহতম উল্লাহ, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, জনতা ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনার জন্য দায়িত্বরত ওই ট্রাফিক পুলিশই দায়ী। কেননা যে ছেলেটিকে তারা ধরেছে, সে অনেক অনুনয় বিনয় করেছে, এমনকি আগামীকাল মঙ্গলবার তার বিদেশে যাওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। এতো কিছু বলার পরও ট্রাফিক অহেতুক একটি মামলা দেয়। মূলত এই ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় ও পথচারীরা ট্রাফিকের উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং ধাক্কা ধাক্কি শুরু হয়।
ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা মো. মাসুম বলেন, ছেলেটিকে থামতে বলতে সে মোটরসাইকল থামায় ঠিকই, কাগজপত্র দেখতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তার সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলে। পরে থানা পুলিশ এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি বলে তিনি জানান।

 

Lab Scan