চৌগাছায় চায়না কমলা চাষে সফল নার্সারি ব্যবসায়ী হাবিবুর

0

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় চায়না ছোট জাতের কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন নার্সারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান। তিনি পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাকপাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে ৯ বিঘা জমিতে রয়েছে চায়না কমলা চাষ করেছেন। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা। চারা লাগানোর মাত্র দেড় বছরে গাছে কমলা আসতে শুরু করেছে। বর্তমান তার বাগানের বয়স আড়াই বছর। এ বছর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আরো ৪ বিঘা জমিতে কমলার চাষা শুরু করছেন। তিনি এ বছর প্রায় ৯ লাখ টাকার চায়না কমলা বিক্রি করেছেন। আর মাত্র ২০ দিন পর বাগান থেকে আরো প্রায় ১৫-২০ মণ কমলা বিক্রি করার আশা করছেন। বর্তমান কমলার বাজার মূল্যে প্রতিমণ ৬ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাদে দ্বিগুণ লাভ হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে তার ফল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের সাথে ফল বাগানে কাজ করছেন। তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্যে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা না দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের জন্যে বেছে নেন কৃষিখাত। প্রথমে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। পরে দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন সমন্বিত ফলের চাষ। বর্তমানে প্রায় ৯ বিঘা জমিতে রয়েছে দেশি -বিদেশি নানান জাতের ফলের গাছ। পেয়ারা, আম, মাল্টা, আঙুর চাষের পাশাপাশি চায়না ছোট জাতের কমলা চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রথমে তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুরের নার্সারি ব্যাসায়ী ইউছুফ আলীর কাছ থেকে ২৫টি চায়না ছোট জাতের কমলার চারা সংগ্রহ করেন। পরে এগুলো থেকে কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে দুই বিঘা জমিতে ২০০টি কমলা গাছ রোপণ করেন।
হাবিবুর বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে আমি কৃষিতে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নেই। কমলা চাষের পাশাপাশি বাগানে বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ আছে। তবে কমলার চাহিদা ভালো থাকায় কমলা চাষের আগ্রহ বেড়ে যায়। আমার প্রতি বিঘা জমিতে ১শটি করে কমলা গাছ রয়েছে। এটি মিষ্টি জাতের কমলা। অনেক সুস্বাদু। বর্তমান বাগানের বয়স আড়াই বছর। শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিঘা প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছি। আশা করছি এ বছর কমলা বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হবে। কমলা বাগানে কর্মরত শ্রমিক সোহাগ হোসেন বলেন, শিক্ষিত যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতে মনযোগ দিলে ভাল আয় করা সম্ভব। আমিও কমলা বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এ বাগানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি।চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, কমলা চাষ এ উপজেলায় নতুন সম্ভাবনাময় চাষাবাদ। কমলা চাষের এখন পর্যন্ত কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি।

 

Lab Scan