চৌগাছায় চাল কুমড়া চায়ে লাভবান

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা উপজেলায় প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় মাচায়, ঘরের চালে কুমড়ার চাষ লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিকালে চাল কুমড়া মাঠে বাণিজ্যিক ভাবেও চাষ হচ্ছে। এ জনপদের কৃষকরা চাল কুমড়ার চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে চাল কুমড়া শুধু চালে কিংবা মাঠে চাষ হচ্ছে এমনটি নই, গৃহবধূরা বাড়ির আঙিনায় অন্য সব গাছ গাছালিতেও চাল কুমড়ার চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।
সূত্র জানায়, গৃহবধূরা এক সময় চাল কুমড়ার বিজ বাড়ি ঘরের পাশে মাটিতে বপন করে রাখতেন। সেই বীজ থেকে চারা বের হলে তা ঘরের চালে উঠিয়ে দিতেন। ঘরের চালে গাছ বাড়তে থাকে এবং ফল দিতে শুরু করে। গ্রামের অনেক গৃহবধূ বাড়ির আঙিনায় বা ঘরের পাশে অন্য কোনো গাছ গাছালিতেও চাল কুমড়ার চাষ করেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি চৌগাছা পৌর এলাকার বেলেমাঠ গ্রামের গৃহকর্তা শফিকুল ইসলাম তার বাড়ির সামনে একটি আমড়া গাছে চাল কুমড়ার চাষ করেছেন। আমড়া গাছের নিচে তিনি একটি কুমড়ার বীজ রোপন করেন। এই বীজ থেকে চারা বের হওয়ার পর ওই চারাটি আমড়া গাছে উঠিয়ে দেন। আমড়া গাছ চাল কুমড়া গাছে ঢেকে ফেলে। এ কারণে আমড়া গাছের কিছুটা ক্ষতি হলেও ব্যাপক ভাবে চাল কুমড়া ধরে ওই আমড়া গাছে। বড় আকৃতির চাল কুমড়াগুলো তিনি জাল দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে রেখেছেন। সময়ের ব্যবধানে চাল কুমড়া এখন বানিজ্যক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে।
কৃষক কবির হোসেন বাবলু বলেন, বর্তমানে দেশের সর্বত্রই চাল কুমড়ার ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা বাণিজ্যিক ভাবে এর চাষ শুরু করেছেন। বছরের প্রায় বার মাসই চাল কুমড়ার চাষ হচ্ছে। তবে শীত মৌসুমে চাল কুমড়ার চাষ বেশি হয়। বাজারে একটি চাল কুমড়ার জালি (ছোট চাল কুমড়া) ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া তরকারি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও মুরব্বা, হালুয়া, পায়েস ও কুমড়া ডাল দিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়। শুধু চাল কুমড়াই নয়, কুমড়া গাছের কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। চাল কুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি, এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, শর্করা ও ফাইবার রয়েছে। এ কারণে চাল কুমড়া মানুষের কাছে দিন দিন প্রিয় সবজিতে পরিণত হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন।

ভাগ